default-image

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পা ‘সেরে ওঠার’ কথা জানিয়েছেন। কলকাতায় ফিরে প্লাস্টার কাটার আশা করছেন তিনি।
আজ রোববার পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরে এক ভার্চ্যুয়াল নির্বাচনী সভায় যোগ দিয়ে এ কথা বলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পায়ের এই চোট নিয়ে দেড় মাস ধরে জেলায় জেলায় ঘুরেছি। এখন আমার পা ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু যেহেতু আমি বাড়ি যেতে পারছি না, তাই প্লাস্টারও কাটতে পারছি না। টানা ১০ দিন ধরে আমি বাড়ির বাইরে আছি। বাড়ি ফিরে গিয়ে প্লাস্টার কাটব।’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে ভোটে লড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। গত ১০ মার্চ দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার মহকুমা প্রশাসকের দপ্তরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনি ওই এলাকার একটি মন্দিরে গিয়ে পূজা দেন এবং আরতি করেন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তিনি আবার স্থানীয় কয়েকটি মন্দিরে গিয়ে পূজা দেন। এভাবে তিনি নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ার একটি মন্দিরে পূজা দিয়ে সেখানকার রাণীচকের একটি মন্দিরে গিয়ে যোগ দেন সংকীর্তন অনুষ্ঠানে। সংকীর্তন শুনে বের হওয়ার সময় হঠাৎ চার-পাঁচজন এসে তাঁকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এতে তাঁর কপাল, মাথা ও বাঁ পায়ে চোট লাগে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সময় সেখানে পুলিশ ছিল না। নিরাপত্তারক্ষীরা মমতাকে উদ্ধার করে গাড়িতে করে রেয়াপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। পথে একটি দোকান থেকে বরফ নিয়ে তাঁর পায়ে লাগানো হয়। কিন্তু ব্যথা বাড়লে যাত্রা বাতিল করে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। ফেরার পথে সাংবাদিকেরা তাঁর গাড়ি ছেঁকে ধরলে মমতা বলেন, ‘দেখো, আমার পা কত ফুলে গেছে!’

default-image

সে সময় গাড়িতে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ভিড়ের মধ্যে চার-পাঁচজন বাইরে থেকে ঢুকে তাঁকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেন। ‘ইচ্ছাকৃতভাবেই’ তাঁকে ধাক্কা মারা হয়েছে। এর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে তাঁর ধারণা।

কলকাতার পিজি হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসার পর মমতার অনুরোধে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, হুইলচেয়ারে বসে তিনি প্রচার চালাতে পারবেন। এ জন্য তাঁর পায়ে প্লাস্টার করা হয় এবং বিশেষ জুতা পরানো হয়। সেই থেকে মমতা হুইলচেয়ারে বসে তাঁর নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে আসছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন