ভারতের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা শিগগিরই কেটে যাবে। পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একাধিক নেতা গতকাল রোববার এ কথা বলেছেন। তাঁরা বলেছেন, জোট সরকার গঠন নিয়ে তাঁদের মধ্যে সমঝোতা হতে চলেছে। খবর দ্য হিন্দুর।
পিডিপির একটি সূত্র বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে জানায়, দুটি দল সরকার গঠনে প্রায় মতৈক্যে পৌঁছে গেছে। সে অনুযায়ী পিডিপি নেতা মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ এই জোট সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।
সদ্য সমাপ্ত জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচনে কোনো দল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। তাই সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা দেখা দেয়। ৮৭ আসনের রাজ্য বিধানসভায় একক বৃহত্তম দল হিসেবে পিডিপি পায় ২৮টি আসন। বিজেপি পায় ২৫টি। কিন্তু সরকার গঠন করতে দরকার ৪৪টি আসন।
সূত্র অনুযায়ী, পিডিপি সেনাবাহিনীর বিশেষ অধিকারবিষয়ক আইন আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট (আফসপা) বাতিল চায়। এই আইনটি নিরাপত্তা বাহিনীকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দিয়েছে। আবার কাশ্মীরের বহু জাতি-ধর্মের পরিচয়টি অক্ষুণ্ন থাকুক, তা-ও চায় পিডিপি।
পিডিপির ওই নেতা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী মুফতি সাহেব মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। সহকারী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজেপি থেকে। মন্ত্রিসভায় পিডিপি থেকে ছয়জন আর বিজেপি থেকে পাঁচজন সদস্য থাকছেন। রাজ্যের বিধানসভার পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত অর্থাৎ ছয় বছর এই চুক্তি বলবৎ থাকবে।
বিজেপির এক সূত্র জানায়, রাজ্যের নতুন সরকারে থাকতে বিজেপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মন্ত্রিসভার ভাগাভাগি নিয়ে পিডিপির সূত্রের দাবি বিজেপির সূত্র নিশ্চিত করেনি। বিজেপির সূত্র আরও জানায়, জম্মু-কাশ্মীরে যে-ই সরকার গঠন করতে যাক, তাদের সমর্থন নিতে হবে। বিজেপির পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া সরকার গঠিত হবে না।
পিডিপির মুখপাত্র নাইম আখতার বলেন, ‘কাশ্মীর উপত্যকা, জম্মু ও লাদাখের জন্য ভালো হয় এমন একটি ভালো চুক্তির চেষ্টা করছে আমাদের দল। একক বৃহত্তম দল হিসেবে অন্য দলগুলোর সমর্থনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে।’
এদিকে পিডিপি, কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্বে বৃহত্তম জোট তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা এবং রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবী আজাদ। আগামী ১৬ জানুয়ারি এই রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন