বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পি কে হালদারের প্রাসাদোপম বাড়িসহ অনেক সম্পদের সন্ধান পায় ইডি। সংস্থাটি পি কে হালদার ও তাঁর সহযোগীদের সম্পদের সন্ধানে গত দুই দিনে অন্তত ১০টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে। প্রধানত আর্থিক কেলেঙ্কারি, বেআইনিভাবে ভারতে অর্থ পাঠানো, বিদেশে অর্থ পাচার এবং আইনবহির্ভূত সম্পত্তির বিষয়ে তদন্ত করছে ইডি। অবশ্য এ পর্যন্ত কতগুলো বাড়ি, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হদিস পাওয়া গেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য গতকাল রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পি কে হালদার বাংলাদেশে আর্থিক খাতের শীর্ষ দখলদার ও খেলাপিদের একজন। ২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যান, পরে কানাডায় পাড়ি জমান।

ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ ও বসবাস, বেনামে সম্পত্তি কেনা এবং আইনবহির্ভূতভাবে অর্থ বাংলাদেশ থেকে ভারতে আনা—এসব অভিযোগে পি কে হালদার ও তাঁর পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ২০০২ সালের মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট বা অর্থ পাচার আইনের ওপর। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে পি কে হালদারের ব্যবসা দেখাশোনা করা তাঁর ভাই প্রাণেশ কুমার হালদার আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইডি বলছে, পি কে হালদার নিজেকে শিবশংকর হালদার পরিচয় দিয়ে ভারতের একাধিক সরকারি পরিচয়পত্র, যেমন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রেশন কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, আয়কর দপ্তরের পরিচয়পত্র পিএএন বা প্যান, নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র, আধার কার্ড ইত্যাদি জোগাড় করেছিলেন। পি কে হালদারের সহযোগীরাও একই কাজ করেছেন বলে জানিয়েছে ইডি।

ইডি গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পরিচয়পত্র দিয়ে পি কে হালদার ও তাঁর সহযোগীরা ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় সম্পদ কিনেছিলেন। কলকাতার কিছু অভিজাত এলাকাতেও তাঁদের বেশ কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। ইডি বাংলাদেশের তিন নাগরিক পি কে হালদার, প্রীতিশ কুমার হালদার ও প্রাণেশ কুমার হালদার এবং তাঁদের কয়েকজন সহযোগীর বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে। পি কে হালদার বাংলাদেশে বহু কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলেও ইডি জানিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাটির ভাষ্য, ‘এই টাকার বিরাট অংশ ভারতসহ অন্যান্য দেশে পাঠানো হয়েছে।’

কত মামলা, কত অর্থ আত্মসাৎ

বাংলাদেশে দুদক সূত্রে জানা গেছে, পি কে হালদারের দখল করা চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেন।

দুদক পি কে হালদারের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা মূল্যের জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পদ ক্রোক করেছে। এ ছাড়া পি কে হালদার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৪টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় পি কে হালদারসহ আসামি ৮০ জন। এর মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের তো ভালোই লাগল। একটা আসামি ধরা পড়ল। এখন আমরা তাঁকে দ্রুত দেশে আনার চেষ্টা করব। এটাই আমাদের একমাত্র কাজ।’ তবে দুদকের কোনো অভিযোগ বা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।

যদিও দুদক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পি কে হালদারের পাচারকৃত সম্পদের তথ্য চেয়ে দেড় বছর আগে কানাডা, সিঙ্গাপুর ও ভারতে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধ (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট—এমএলএআর) পাঠায়। একই সঙ্গে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়। বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি ইন্টারপোল শাখার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল। আবেদনে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা এবং অভিযোগ সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন