default-image

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস ২৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার। এদিন রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে কত ট্রাক্টর নামতে চলেছে, সে ব্যাপারে আগাম কোনো অনুমানে নারাজ দিল্লি পুলিশ। তবে কৃষক সংগঠকেরা জানিয়েছেন, ৫০ থেকে ৬০ হাজার ট্রাক্টর সেদিন দিল্লি দাপাবে। তবে এই মিছিল হবে সুশৃঙ্খলভাবে এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে।


বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে দিল্লি ঢোকার যেসব বড় সীমান্তে দুই মাস ধরে কৃষকেরা অবস্থান করছেন, সেসব জায়গায় এখন সাজ সাজ রব। দিল্লি পুলিশ মিছিলের অনুমতি দেবে কি না, সেই অপেক্ষায় না থেকে হাজার হাজার কৃষক নিজেদের ট্রাক্টর সাজিয়ে ফেলেছেন। এসব ট্রাক্টরে উড়ছে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি কৃষক সংগঠনের নিশান। টাঙানো হয়েছে ‘অন্নদাতার দুর্দশা’, ‘কৃষি আমাদের সংস্কৃতি’, ‘কৃষি আইন বাতিল ছাড়া দ্বিতীয় পন্থা নেই’ লেখা শ শ পোস্টার। লাউডস্পিকারে বেজে চলেছে দেশাত্মবোধক গান।


দেশের ৪০০টির বেশি কৃষক সংগঠন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে শামিল। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশের অনুমতিও চলে এসেছে। তবে পুলিশ শর্ত দিয়েছে, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো চলবে না। এ ছাড়া প্রজাতন্ত্রের প্যারেডে কোনো বিঘ্ন ঘটানো চলবে না। এই অনুমতি পাওয়ার পর কৃষকদের মধ্যে উদ্দীপনা আরও বেড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন


কিষান সভার সাধারণ সম্পাদক সিপিআই নেতা অতুল কুমার অঞ্জান বলেছেন, সারা দেশে প্রস্তুতি শেষ। মঙ্গলবার একই সঙ্গে দেশের ১৯৪ জেলায় ট্রাক্টর মিছিল হবে। সরকারকে বোঝানো হবে, শুধু পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের কৃষকেরা আন্দোলন করছেন না। গোটা দেশ কৃষি আইন বাতিল চায়।
কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে মহারাষ্ট্রেও শুরু হয়েছে মহামিছিল। কিষান সভার উদ্যোগে হাজার হাজার কৃষক রোববার পদযাত্রা শুরু করেছেন নাসিক থেকে মুম্বাই। কৃষক সংগঠনের সদস্য ছাড়াও মিছিলে হাঁটছেন বহু রাজনীতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও নাগরিক সংগঠনের নেতা–কর্মীরা। নাসিক থেকে মুম্বাই—মোট ১৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কৃষকেরা মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে জনসভা করবেন আজ সোমবার। এরপর তাঁরা যাবেন রাজভবনে। রাজ্যপালের কাছে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে স্মারকপত্র দেবেন।


আজাদ ময়দানের জনসভায় উপস্থিত থাকবেন এনসিপির শারদ পাওয়ার, শিবসেনার আদিত্য ঠাকরে, কংগ্রেসের বালাসাহেব থোরাটের মতো শীর্ষ নেতারা। শারদ পাওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারকে বারবার সতর্ক করে বলেছেন, কৃষকদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হচ্ছে না। তাঁদের দাবি অনুযায়ী আইন বাতিল করে সবার মত নিয়ে নতুনভাবে আইন করা হোক।


তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার আইন বাতিলে এখনো রাজি নয়। কৃষকদের সঙ্গে ১১ দফা বৈঠক তাই নিষ্ফলা। সরকার আইন সংশোধনে রাজি। কিন্তু ন্যূনতম সহায়ক মূল্যকে আইনি মান্যতা দিতে রাজি নয়। সরকার দেড় বছরের জন্য আইন স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিলেও অধিকাংশ কৃষক সংগঠন তা খারিজ করে দিয়েছে। তা জানার পর কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং টোমার বলেছেন, বল এখন কৃষকদের কোর্টে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন