বিজ্ঞাপন

বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু টিকা নষ্ট হয়, জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, টিকার ডোজ নষ্ট হওয়ার এ হার অনেক বেশি হলে সেটার ভাবনার বিষয়। তাতে প্রক্রিয়াগত ত্রুটির বিষয়গুলো উঠে আসে। বিশেষত, মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় যখন ভারতে টিকার সংকট চরম আকার নিয়েছে, অনেক রাজ্য জনসংখ্যার অনুপাতে চাহিদা অনুযায়ী টিকা পাচ্ছে না, তখন টিকার ডোজ নষ্ট রোধে আরও বেশি সচেতন হওয়া ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।

মূলত মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে করোনার টিকা নষ্ট হওয়া পেছনে ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরম কিংবা ঠান্ডায় সংরক্ষণ, এমনকি চুরির কারণেও অনেক টিকা নষ্ট হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনেক সময় ভায়াল থেকে বের করার পর সময়মতো টিকা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না, তখন ওই ভায়ালে থাকা টিকার বাকি ডোজ নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় মানুষ সময়মতো টিকাকেন্দ্রে যাচ্ছেন না, এ কারণে আগেই খুলে রাখা ভায়ালের অবশিষ্ট টিকা নষ্ট হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার টিকা নষ্ট হওয়ার উচ্চ হার সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সচেতনতা ও সক্ষমতার অভাবের ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

তবে কেন্দ্রীয় সরকারের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। টুইটার বার্তায় তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা করোনার টিকার অনুপাতে রাজ্যে টিকার ডোজ নষ্ট হওয়ার বর্তমান হার ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। কারিগরি অসুবিধার কারণে সম্পূর্ণ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য হালনাগাদ করা হবে।

এদিকে রেকর্ড সংক্রমণ ও মৃত্যুর কারণে দিল্লির করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। এরপরও চাহিদা অনুযায়ী করোনার টিকা পাচ্ছে না দিল্লি। টিকার সংকট দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়ালের রাজ্য সরকারের সামনে করোনা মহামারি ঠেকাতে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে।

গত শনিবার পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় দিল্লিতে ১৮-৪৪ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়া সাময়িক বন্ধ হয়ে গেছে। সংকট সমাধানে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও মডার্নার কাছ থেকে সরাসরি করোনার টিকা কেনার চেষ্টা চালান কেজরিওয়াল। তবে এসব প্রতিষ্ঠান শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে টিকা চুক্তি করবে বলে তাঁকে জানিয়ে দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্র্রী নরেন্দ্র মোদিকে দিল্লিতে চাহিদা অনুযায়ী করোনার টিকা সরবরাহের আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখেছেন কেজরিওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি মাসে দিল্লির ৮০ লাখ ডোজ করোনার টিকা প্রয়োজন। কিন্তু মে মাসে কেন্দ্রীয় সরকার সরবরাহ করেছে মাত্র ১৬ লাখ ডোজ টিকা। জুনে টিকার সরবরাহ আরও আট লাখ ডোজ কমানো হয়েছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন