বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই টুইটই চনমনে করে তুলেছে ভারতের রাজনীতি।

রাজনীতিতে নিজের আগ্রহের কথা ৪৫ বছরের পিকে কখনো গোপন করেননি। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে অমিত শক্তিধর বিজেপিকে হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাসীন রেখে দেওয়ার কৃতিত্ব অর্জনের পর প্রকাশ্যে নতুন ইনিংস শুরুর ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছিলেন। এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ভোটকুশলী হিসেবে আর কিছু তাঁর প্রমাণ করার নেই। নিজের তৈরি সংস্থা ‘আইপ্যাক’ থেকে সরে আসার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, সময় এসেছে নতুন কিছু করার। সেই নতুন জিনিসটা কী, পিকে তা স্পষ্ট করেননি। এখন মনে করা হচ্ছে, নিজস্ব দল খুলে জনতা জনার্দনের দরবারে শক্তি পরীক্ষাই সম্ভবত তাঁর ভবিতব্য।

রাজনীতির প্রতি পিকের আকর্ষণ অবশ্য নতুন কিছু নয়। ভোটকুশলী হিসেবে বারবার নিজের যোগ্যতা প্রমাণের পর বরং সেই ইচ্ছা চাগাড় দেওয়াটাই স্বাভাবিক। ২০১২ সালে তিনি গুজরাটে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রথম গাঁটছড়া বাঁধেন। ২০১৪ সালে ‘হর হর মহাদেব, ঘর ঘর মোদি’ স্লোগানের জন্ম দিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রীপদে আসীন হতে সাহায্য করেন। পরের বছর বিহার নির্বাচনে জনতা দলের প্রচার হাতে নেন। ভোট শেষে মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ কুমার। দুই বছর পর ২০১৭ সালে পাঞ্জাবে কংগ্রেসের অমরিন্দর সিংকে জেতাতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। যদিও সেই বছর উত্তর প্রদেশের ভোটে কংগ্রেসের হয়ে কাজে নামলেও তিনি ব্যর্থ হন। মাঝপথে দায়িত্ব ছাড়ার পাশাপাশি কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্যও বেড়ে যায়। ২০১৯ সালে অন্ধ্র প্রদেশে তিনি বেছে নেন জগনমোহন রেড্ডির দল ওয়াইএসআর কংগ্রেসকে। সেই সাফল্য তাঁকে টেনে আনে ২০২০ সালে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে। পরের বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী করা তাঁর পাগড়ির আরও এক ঝলমলে পালক। এই হালে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে। তেলেঙ্গানার ভোট আসছে বছর।

১০ বছরের এই যাত্রাপথে পিকে তাঁর রাজনৈতিক অভীপ্সার কথা কখনো গোপন করেননি। বরং খোলাখুলি তা প্রকাশ করে ২০১৮ সালে নীতীশ কুমারের সাহচর্যে জনতা দলে যোগ দিয়েছিলেন। নীতীশ তাঁকে দলের সহসভাপতি করেছিলেন। কিন্তু সেই জীবন ছিল ক্ষণস্থায়ী। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ‘দলবিরোধী’ কাজের জন্য পিকে জনতা দল থেকে বহিষ্কৃত হন। কথায় বলে, রাজনীতির ভূত যার মগজে টোকা মারে, কোনো ওঝাই তার চিকিৎসায় সফল হয় না। পিকেও সম্ভবত তেমনই।

এই টুইট ভারতীয় রাজনীতিকে আরও চনমনে করে তুলেছে কারণ, অতি সম্প্রতি পিকের কংগ্রেসে যোগদানের সম্ভাবনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কংগ্রেসকে ঘিরে বিজেপিবিরোধী ফ্রন্ট গড়ে তোলার যে উদ্যোগ পিকে নিয়েছিলেন, প্রায় এক সপ্তাহ সেটাই ছিল রাজনীতির বড় খবর। কী করে কংগ্রেস হৃত মর্যাদায় ফিরতে পারে, সে সম্পর্কে পিকে তাঁর তৈরি নীলনকশা পেশ করেছিলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে। কিন্তু দলে যোগদান ও নির্বাচনে জেতানোর মূল দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাবে পিকে সহমত হতে পারেননি। তীরের এত কাছে গিয়েও কেন তরি ঘাটে ভিড়ল না, সে জল্পনা থিতানোর আগেই পিকের নবতম টুইট খুলে দিল নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত।

ভোটকুশলীর ইঙ্গিত ঠিক হলে এবার নতুন দল গড়ে নিজেকেই তিনি দাঁড় করাতে চলেছেন নিজের তৈরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পারবেন কি তিনি আরেকজন অরবিন্দ কেজরিওয়াল হতে, রাজনীতিতে আসা ইস্তক যিনি শুধু দাগই কাটেননি, দিল্লি ও পাঞ্জাবের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন?

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন