default-image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ভারতের ক্ষমতাসীন দলটির প্রার্থী তালিকায় নাম দেখে দুজন বললেন, বিজেপির সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁরা জানেন না কীভাবে প্রার্থী হয়ে গেলেন। কারণ, তাঁরা বিজেপির হয়ে ভোটে লড়তে চাননি।

তাঁদের একজন হলেন পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোমেন মিত্রর স্ত্রী শিখা মিত্র চৌধুরী। সোমেন মিত্র মারা যাওয়ার পরে জল্পনা ছিল শিখা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। আজ তাঁর নাম দেখা যায় বিজেপির তালিকায়, মধ্য কলকাতার চৌরঙ্গী কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে। অপরজন হলেন উত্তর কলকাতার কাশিপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের প্রার্থী তরুণ সাহা। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মালা সাহার স্বামী তরুণ সাহাও ওই দলের সঙ্গে যুক্ত।

২৭ মার্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে। আট ধাপে ভোট গ্রহণ শেষে গণনা করা হবে ২ মে। এ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার একটি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি। সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত মঙ্গলবারের মতোই একাধিক জায়গা থেকে কর্মী বিক্ষোভের খবর আসতে শুরু করে। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করে দেওয়া ঘটনা ঘটে যখন চৌরঙ্গী কেন্দ্রের প্রার্থী শিক্ষা মিত্র চৌধুরী বলেন, তাঁকে কেন বিজেপি প্রার্থী করল তা তিনি জানেন না।

‘আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। শুভেন্দু অধিকারী (বিজেপি নেতা) এসেছিলেন, তাঁকে বলেও দিয়েছি যে আমি প্রার্থী হব না। এখন শুনছি আমি প্রার্থী। অবাক করা কাণ্ড। আমি প্রার্থী হতে রাজি নই, বিজেপিতে তো নয়ই,’ বলেন তিনি।

একই কথা বলেন কাশীপুরের বিজেপি প্রার্থী তপন সাহা। তিনি বলেন, তৃণমূলের ওপরই আস্থা রয়েছে তাঁর, তৃণমূলেই থাকছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

এ ঘটনা অস্বস্তির, তা স্বীকার করছেন বিজেপির রাজ্যনেতারা। সাধারণভাবে বিজেপিকে সারা ভারতে একটি সুশৃঙ্খল দল বলে মনে করা হয়। তারা তৃণমূল কংগ্রেসের মতো কিছুটা ছড়ানো-ছিটানো দলের থেকে আলাদা। সেই দলে এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব।

উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা থেকে বিজেপির প্রার্থী ও সাবেক রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বলেন, ‘আমরা জানি কার এদের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল। কথা হয়তো ঠিকমতো বলা হয়নি।’

এর বাইরেও প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। কারণ, বেশ কয়েকটি জায়গায়ই আগের দিনের মতোই প্রার্থী নিয়ে ব্যাপক হইচই হয়েছে। এ আসনগুলো হলো মালদা, জলপাইগুড়ি, দুর্গাপুর-পূর্ব পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর প্রভৃতি। ঝামেলা শুরু হওয়ার পর দেখা যায় অনেক প্রার্থীই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সম্প্রতি এসেছেন, রয়েছেন অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীও।

এ নিয়ে শিলিগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেন, ‘এ ঘটনাগুলো বিজেপির রাজনৈতিক দীনতার প্রকাশ। তাঁরা অপেক্ষা করছেন কে কবে নিজের দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবে। বিজেপি যে এখনো বাংলায় রাজনৈতিক শক্তি নয়, এটা তারই একটা লক্ষণ।’

জেলায় সভা করলেন মোদি–মমতা

বৃহস্পতিবার পাশাপাশি দুটি জেলায় বিজেপি ও তৃণমূলের পক্ষে জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তব্যে একে অপরকে জোরালো ভাষায় আক্রমণ করলেন তাঁরা।

মোদির আক্রমণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল তৃণমূলের মুসলিমতোষণ এবং অনুপ্রবেশবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা। যদিও মুসলিম শব্দটি প্রধানমন্ত্রী ব্যবহার করেননি। ঘূর্ণিঝড় আম্পান ঘিরে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের দুর্নীতির প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।

অপরদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন বিজেপির ‘টাকা ছড়িয়ে ভোটের রাজনীতির’। সিপিআইএম (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া মার্ক্সিস্ট) নেতা-সমর্থকদের বিজেপিতে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যে। তিনি এদিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তিনটি সভা করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে চারবার আসবেন। সভা করবেন বিভিন্ন জায়গায়। পুরুলিয়ায় আজ তাঁর প্রথম সভাটি ছিল।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন