default-image

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তারকা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী ছিলেন বিজেপির প্রচারের অন্যতম প্রধান মুখ। এমনকি বিজেপি জিতলে তিনি হবেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই ছিল জল্পনা। ফল ঘোষণার আগের দিনও রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে এ জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছিলেন মিঠুন। তবে রোববার ভোটের ফলাফলে বিজেপির স্বপ্ন ভঙ্গের পর থেকে আড়ালেই থেকে গেছেন তিনি।  


রোববার ভোটের ফল ঘোষণা হলে দেখা যায়, বিজেপি ২৯২ আসনের মধ্যে ৭৪টি আসন পেতে যাচ্ছে। আর মমতার তৃণমূল পেতে যাচ্ছে ২১৬টি আসন। সামাজিক মাধ্যমে তৃণমূলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত সিংসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা। তবে নীরব ছিলেন মিঠুন। রোববার বিজেপিকে ঘিরে তাঁর কোনো কর্মসূচি ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোতে আসেনি।

বিজ্ঞাপন


ভোটের ফল ঘোষণার আগেরদিন শনিবার দুপুরেই রাজভবনে গিয়েছিলেন মিঠুন। সাক্ষাৎ করেন রাজ্যপালের সঙ্গে। গণমাধ্যমের খবর, রাজ্যে বেড়ে চলা কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যপাল নিজেই মিঠুনকে ডেকে নিয়েছেন। মিঠুন বলেছিলেন, রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতে রাজনৈতিক কোনো কিছু ছিল না।


মমতার আহ্বানে মিঠুন একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই মিঠুন গত ৭ মার্চ কলকাতায় বিজেপি আয়োজিত ব্রিগেডের বিশাল সমাবেশে যোগ দেন। মোদির হাত ধরে বিজেপিতে নাম লেখান। এর পরে তিনি বেলগাছিয়ার ভোটার হন। নির্বাচনে মনোনয়ন না নিলেও বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের প্রধান মুখ হিসেবে রাজপথে নামেন। রোড শো, জনসভা—নানাভাবে বিজেপির পক্ষে ভোট টানতে চেষ্টা করেন মিঠুন।

নির্বাচনী প্রচারে মিঠুন বলেছিলেন, ‘আমি বাঙালি। বাংলাকে ভালোবাসি। আমার স্বপ্ন বাংলাকে গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে আমি মোদির উন্নয়নের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছি। বাঙালির অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। লড়াই চলবে। এই দাদা কখনো পালিয়ে যায়নি। যাবেও না। বাংলার উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেব আমি।’


মিঠুন বিজেপির হয়ে নির্বাচনের প্রচার মাঠ চষে বেরিয়েছেন। ভাষণ দিয়েছেন অনেক সমাবেশে। অনেক সমাবেশেই তিনি শুনিয়েছেন তাঁর ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপ, ‘মারব এখানে, লাশ পড়বে শ্মশানে।’ নির্বাচন প্রচারের প্রায় পুরোটা সময়জুড়ে বিজেপির মাঠ মাতিয়ে রাখা মিঠুন ফলাফলের দিন থাকলেন নীরব।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন