default-image

‘বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস’ পালিত হলো কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে। গতকাল রোববার এই দিবস পালিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে দূতাবাসের চারদিক প্রদক্ষিণ করেন। পতাকার চার কোণ ধরেন উপহাইকমিশনের চার কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন কাউন্সেলর (কনস্যুলার) মো. বশির উদ্দিন, প্রথম সচিব (প্রেস) মো. মোফাকখারুল ইকবাল, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) মো. শামছুল আরিফ ও কাউন্সিলর (শিক্ষা ও ক্রীড়া) শেখ রিয়াজুল ইসলাম। মাঝে ছিলেন উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান ও মিনিস্টার (রাজনৈতিক) বি এম জামাল হোসেন।

উপহাইকমিশনের চারপাশ প্রদক্ষিণ শেষে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান। এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর ১৮ এপ্রিল কলকাতায় তৎকালীন পাকিস্তান উপহাইকমিশনে কর্মরত উপহাইকমিশনার এম হোসেন আলী পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তুলেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রায় সব বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারী। সেদিন হোসেন আলীসহ অন্যরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। হোসেন আলী ছিলেন পাকিস্তান মিশনের প্রথম ব্যক্তি, যিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে দূতাবাসে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তুলেছিলেন। বিদেশের মাটিতে এটাই ছিল প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন। এরপরই ওই উপহাইকমিশনের নাম পাল্টে করা হয় ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, কূটনৈতিক মিশন’।

সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করেন কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের বর্তমান উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর তিনি বলেন, ‘সেদিন এই দূতাবাসই প্রথম পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল। সেই দিনের স্মরণে আজ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পেরে আমরা গর্বিত।’

তৌফিক হাসান আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের বাইরে এই মিশনে প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল। আজ সেই মিশনেই পতাকা উত্তোলনের ৫০ বছর পূর্তিতে পতাকা তোলা হলো। এই আয়োজনের অংশ হতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন