default-image

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার ও অর্থনৈতিক অবরোধের প্রতিবাদে কলকাতার মেঘালয় হাউসের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতার বাইপাসে অবস্থিত মেঘালয় হাউসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ‘আমরা বাঙালি সংগঠন’।

মেঘালয়ে প্রায় ২০ হাজার বাঙালির বসবাস। সেখানকার বাঙালিবিরোধী কিছু সংগঠন এনআরসির নামে বাঙালিদের তাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে মেঘালয়ের খাসি ছাত্রসমাজ ও কয়েকটি এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে গতকাল মেঘালয় হাউসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে আমরা বাঙালি সংগঠন।

বিক্ষোভ সমাবেশের নেতৃত্ব দেন আমরা বাঙালি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সচিব বকুল চন্দ্র রায়।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুগ যুগ ধরে মেঘালয়ে বসবাসকারী বাঙালিদের এনআরসির নামে তাড়ানো চলবে না। বাঙালিরা এখানের ভূমিপুত্র। তাদের এখন এনআরসির নামে তাড়ানোর জন্য মাঠে নেমেছে মেঘালয়ের খাসিদের গড়া কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও। সেই সঙ্গে খাসি ছাত্রসমাজ। এটা মানা যায় না।

বক্তারা বলেন, সংগঠনগুলো তাঁদের কাছে নাগরিকত্বের নানা তথ্য চেয়ে হয়রানি শুরু করেছে। ছড়ানো শুরু করেছে বিদ্বেষও। এনজিওর সদস্যরা বাঙালিদের তাড়ানোর লক্ষ্যে মেঘালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। মেঘালয়ে বাঙালিদের দোকানপাট খুলতে দিচ্ছে না। গাড়িও চালাতে দিচ্ছে না। ফুটপাতের বাঙালিদের দোকানপাট তুলে দেওয়া হয়েছে। বাঙালিদের গাড়ির লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, ভোটার পরিচয়পত্র ইস্যু ইত্যাদি কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।

আমরা বাঙালির কেন্দ্রীয় সচিব বকুলচন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তের ইছামতী, ভোলাগঞ্জ, কালিবাড়ি এবং কালাটেক এলাকার বসবাসকারী সাড়ে ৭ হাজার বাঙালির ওপর অত্যাচার শুরু হয়েছে। বাঙালিদের মেঘালয় থেকে তাড়ানোর অভিযান শুরু করেছে। অবিলম্বে মেঘালয়ে বাঙালি নির্যাতন বন্ধ না হলে রাজ্যব্যাপী বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এনআরসির নামে মেঘালয় থেকে বাঙালি হটানোর আন্দোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে।

বিক্ষোভকারীরা মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

স্মারকলিপিটি মেঘালয় হাউসের কমিশনারের হাতে দেওয়া হয়। সমাবেশে বকুল চন্দ্র রায় ছাড়া বক্তব্য দেন অশোক সরকার, মৃত্যুঞ্জয় মল্লিক প্রমুখ।

মন্তব্য পড়ুন 0