বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাবুল সুপ্রিয়র তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রায় দুই মাস হতে চলেছে। কিন্তু এ সময়েও বাবুল সুপ্রিয়কে তৃণমূল কোনোও পদে না বসানোয় এখন নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে, বাবুল সুপ্রিয়কে এবার আসন্ন কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। আগামী ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা ও হাওড়া পৌর করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজনৈতিক মহলের খবর, ওই নির্বাচনেই তৃণমূল বাবুল সুপ্রিয়কে কলকাতার মেয়র পদে মনোনয়ন দিতে পারেন।

কারণ, মমতা আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস এখন থেকে এক ব্যক্তি এক পদ নীতি নিয়ে চলবে। আগে এমনটাও প্রচার ছিল, মমতা এবার কলকাতার মেয়র পদে প্রার্থী করতে পারেন এক নারীকে। সে ক্ষেত্রে নাম উঠে আসে নেত্রী বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের। কিন্তু চন্দ্রিমা যেহেতু রাজ্যের এখন নগর উন্নয়নমন্ত্রী পদে আছেন, সে কারণে এক ব্যক্তি এক পদের আওতায় বাদ হয়ে যায় তাঁর নাম। আর বর্তমান পৌর প্রশাসক ও সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নামও এ নীতিতে বাদ পড়ে যায়। তাই এখন নতুন করে কলকাতাজুড়ে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে, তবে কি সত্যিই কলকাতার মেয়র পদে মনোনয়ন পাচ্ছেন বাবুল সুপ্রিয়? সংবাদমাধ্যমেও বলা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের এখন দ্বিতীয় শক্তিধর ব্যক্তি হলেন মমতার ভাইপো এবং সাংসদ ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পছন্দের তালিকায় নাকি এখন শীর্ষে রয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। ফলে আসন্ন কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচন ঘিরে বাবুল সুপ্রিয়কে নিয়ে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।

বাবুল সুপ্রিয় বিজেপির আসানসোলের সাংসদ হয়ে দুবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পান। এবারের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের পর ৩১ জুলাই রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন বাবুল সুপ্রিয়। তবে তিনি এ কথাও জানিয়ে দেন, তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেশ সেবা করবেন। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতিকে মান্যতা না দিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর বাবুল সুপ্রিয় যোগ দেন তৃণমূলে। এর আগে তিনি ৭ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ছাড়েন। মূলত এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বাবুল সুপ্রিয়কে কলকাতার টালিগঞ্জ আসনে বিধায়ক পদে মনোনয়ন দিলেও সেখানে তিনি তৃণমূল প্রার্থীর কাছে হেরে যান। যদিও তিনি তাঁর আসানসোলের সাংসদ পদ ছাড়েননি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল হলে বাবুল সুপ্রিয় সেই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পেয়ে হতাশ হয়ে বিজেপি ছাড়েন।

বাবুল সুপ্রিয় একজন নামী সংগীতশিল্পী, অভিনেতা, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। বয়স ৫০ বছর। ২০১৪ সালে তিনি বর্ধমানের আসানসোল আসনে প্রথমবারের মতো সাংসদ হন। হন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে আবার তিনি সাংসদ হন এ আসনেই। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে টালিগঞ্জ আসনে বিধায়ক পদে প্রার্থী করেন। সেই নির্বাচনে বাবুল সুপ্রিয় হেরে যান। এরপর তিনি তাঁর পূর্বের সাংসদ পদ নিয়ে রাজনীতিতে থেকে যান। কিন্তু গত ৮ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পুনর্গঠনের সময় বাদ পড়ে যান তিনি। বাদ পড়েন এ রাজ্যের অপর প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীও। এর পরিবর্তে বিজেপি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এ রাজ্য থেকে নতুন চারজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আর এটাই মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেননি বাবুল সুপ্রিয়। তাই তাঁর বিজেপি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন