বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নভেম্বরে আশঙ্কাজনক এমন দূষণের জন্য ফসলের মাঠে থাকা অবশিষ্ট অংশ আগুন দিয়ে পোড়ানো এবং দেওয়ালির আতশবাজিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১৫ সাল থেকে বায়ুমান নিয়ে তথ্য-উপাত্ত রাখছে ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। এর পর থেকে দিল্লির বাসিন্দাদের এতটা খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি।

বায়ুমান নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া সংস্থা এসএএফএআরের প্রতিষ্ঠাতা গুফরান বেগ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় নভেম্বরে বায়ুমান খারাপ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ, বর্ষায় খড় পোড়ানো এবং দীপাবলি।

নাসার উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, গত ১ অক্টোবর থেকে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে তিনটি রাজ্য—পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশে খড় পোড়ানো থেকে ৯০ হাজার ৯৮৪টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারের (সিইইডব্লিউ) রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা।

দীপাবলির পরের দিন দিল্লিতে বায়ুমান বিপজ্জনক স্তরে নেমে গিয়েছিল। কারণ, লোকজন সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আতশবাজি ফাটায়।

বায়ুদূষণকারী ক্ষুদ্র কণা পিএম২.৫ মানুষের ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ১০ মাইক্রোগ্রাম পিএম২.৫ থাকলে তাকে সহনীয় বলা যায়। কিন্তু নয়াদিল্লির বাতাসে পিএম২.৫-এর উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে অনেক বেশি।

বেশ কয়েকটি গবেষণায় এ ধরনের বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

সম্প্রতি লাং কেয়ার ফাউন্ডেশন এবং পালমোকেয়ার রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের এক যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে, উচ্চ মাত্রার বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থেকে শিশুরা স্থূল হয়ে উঠতে পারে এবং তাদের হাঁপানি হওয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে। অতিরিক্ত ওজনের শিশু, হাঁপানি ও বায়ুদূষণের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে এ ধরনের গবেষণা ভারতে এটাই প্রথম।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন