২০১৯ সালের শেষে পাস হলেও বিধি প্রণয়ন করে আইনটি এখনো বাস্তবায়ন করেনি বিজেপি সরকার। এই আইনে মুসলিম সম্প্রদায় ছাড়া ভারতের অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের ভারতে প্রবেশ করতে হবে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে।

দীপঙ্কর বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে সিএএ-কে ইস্যু করে বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপির বিভেদের রাজনীতির সমুচিত জবাব দিয়েছিলেন। আবার যখন উত্তর প্রদেশ এবং পাঞ্জাবে নির্বাচন চলছে, তখনই বিজেপি ভোট পাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএএর প্রসঙ্গ টেনে এনেছে। এটা যেন বিজেপির একটা অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বিজেপিকে সতর্ক করে আসুর সভাপতি বলেন, ‘এ আইন বাস্তবায়ন হলে বিজেপি জানে কি ধরনের প্রতিরোধের মুখোমুখি তাদের হতে হবে। আমরা আদালতে যাব এবং রাস্তায় নেমে লড়াই করব।’

আশির দশকে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের দীর্ঘ প্রায় এক দশকের আন্দোলনের ফলে আসাম চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছিল। এই চুক্তির সাফল্য থেকে তৈরি হয় রাজনৈতিক দল আসাম গণপরিষদ। তারা আসামে দুই দফায় সরকার চালিয়েছে। বর্তমানে দলটি বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে। মন্ত্রিসভায় তাদের সদস্যও রয়েছে। তবে সংগঠন আসুর সঙ্গে গণপরিষদের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। তবে এ সংগঠনটির যথেষ্ট প্রভাব আসামের রাজনীতিতে এখনো রয়েছে।

আসুর সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে আইনবহির্ভূত শরণার্থীদের স্থান দেওয়ার রাজনীতি তারা সমর্থন করবেন না।’

একই কথা বলেছেন আসাম রাজনীতির উঠতি তারকা অখিল গগৈও। আসামে সিএএর বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা হয়েছে।

এদিকে সিএএ বাস্তবায়ন না হলে পশ্চিমবঙ্গসহ অনেক রাজ্যে বিজেপি বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে। নমশূদ্র সম্প্রদায় ও মতুয়াদের অনেকেরই বৈধ নাগরিকত্ব নেই।

কয়েক বছর ধরে বিজেপি তাদের সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। সিএএ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা না হলে মতুয়ারা বিজেপি থেকে দূরে সরে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে গত নির্বাচন পর্যন্ত মতুয়ারা বিজেপির সঙ্গেই ছিল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ২৯৪ আসনের মধ্যে ৭৭টি আসন পেয়েছিল।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন