default-image

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থীদের তৃতীয় ও চতুর্থ দফার আংশিক তালিকা প্রকাশ করার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দলটির মধ্যে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার দুপুরে নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে ওই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

নিজেরা মনোনয়ন না পাওয়ার কারণেই যে শুধু বিজেপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ জন্মেছে তা নয়, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েই মনোনয়ন পাওয়া নিয়েও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে তাঁদের।

দক্ষিণ কলকাতার বেহালায় পছন্দের আসন না পেয়ে এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও মনোনয়ন না দেওয়ায় গতকাল বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কলকাতা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভে একই দিন বিজেপি ছেড়েছেন বৈশাখী।

শোভন চট্টোপাধ্যায় রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কলকাতা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন ২০১০ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। বৈশাখীর সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে ফাটল ধরে শোভনের। পরে শোভন ডিভোর্সের মামলা করেন। ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। বিজেপিতে যান বৈশাখীও। শোভন ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার বেহালা পূর্ব বিধানসভা আসনের তৃণমূল বিধায়কও।

বিজ্ঞাপন

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শোভন চেয়েছিলেন তাঁকে যেন বেহালা পূর্ব আসনেই মনোনয়ন দেয় বিজেপি। সেই সঙ্গে বৈশাখীর জন্যও একটি আসনে মনোনয়ন চাইছিলেন। কিন্তু শোভনকে বেহালা পশ্চিম আসনে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হলে তাতে সায় দেননি তিনি। এ ছাড়া বৈশাখীকেও আর মনোনয়ন দেয়নি বিজেপি। এতে ক্ষুব্ধ শোভন-বৈশাখী গতকাল দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কাছে পদত্যাগপত্র পঠিয়ে দেন।

দক্ষিণ কলকাতার বেহালায় পছন্দের আসন না পেয়ে এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও মনোনয়ন না দেওয়ায় গতকাল বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কলকাতা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভে একই দিন বিজেপি ছেড়েছেন বৈশাখী।

আরেকটি বড় ক্ষোভ ছড়িয়েছে সিঙ্গুর বিধানসভা আসন নিয়ে। টাটার ন্যানো গাড়ি কারখানা গড়ার বিরুদ্ধে এখানেই বামফ্রন্টবিরোধী আন্দোলনের ঝড় তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আন্দোলনের জেরে রাজ্যে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের টানা শাসনের অবসান হয়। ২০১১ সালের নির্বাচনে বামফ্রন্ট পরাস্থ হলে ক্ষমতায় আসেন মমতা।

ঐতিহাসিক এই আসনে এবার বিজেপি সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম নেতা রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে মনোনয়ন দিয়েছে। এই ‘মাস্টার মশাই’য়ের বয়স এখন প্রায় ৯০ বছর। আসনটি থেকে তৃণমূলের টিকিটে গত চারবার বিধায়ক হয়েছেন তিনি। এবার তৃণমূল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গেই পেয়ে গেছেন মনোনয়নও। এতেও ক্ষুব্ধ বিজেপির একাংশ নেতা–কর্মী। ক্ষোভ জানাতে তাঁরা সিঙ্গুরে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। সিঙ্গুরে বৈঠকের জন্য আসা বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্বাস সারঙ্গকে রাত পর্যন্ত বিজেপি দপ্তরে বসিয়ে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তাঁরা। মাস্টার মশাইকে বিজেপির অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি তুলছেন।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ডহারবার আসনের তৃণমূল বিধায়ক দীপক হালদারও সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়ে ওই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। এখানেও বিজেপির নেতা–কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ক্ষোভ ছড়িয়েছে রায়দিঘীতে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শান্তনু বাপুলিকে মনোনয়ন দেওয়া নিয়েও। এখানকার ভোটারদের দাবি, ভোটের ঠিক আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শান্তনুর মনোনয়ন তাঁরা মানবেন না। বিক্ষুদ্ধ নেতা–কর্মীরা ইতিমধ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে বিজেপির প্রার্থী অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ি ও কালচিনি বিধানসভা আসনের বিজেপি প্রার্থী বিশাল লামার মনোনয়নও মেনে নিতে পারেনি নেতা–কর্মীদের একটি অংশ। গতকাল প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। দুজনকে বাদ দিয়ে বিজেপিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন