default-image

নারীদের প্রতি বিজেপির কিছু কর্মীর অশালীন উক্তির প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন কলকাতার বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা গতকাল সোমবার বিকেলে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে এক প্রতিবাদ সভায় বিজেপিকে রোখার ডাক দিলেন। তাঁরা বললেন, এই রাজ্যে বিজেপির নারীবিদ্বেষী হুমকি বরদাশত করা হবে না। এর জবাব দেওয়া হবে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে।

একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী দেবলীনা দত্তের একটি মন্তব্য ঘিরে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হইচই শুরু হয়। ওই মন্তব্যের জন্য দেবলীনাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। চলে মোবাইলে তাঁর বিরুদ্ধে অশ্লীল মন্তব্য থেকে ধর্ষণসহ খুনের হুমকি। ওই মন্তব্য নিয়ে বিজেপির এক নেতা মামলাও করেন দেবলীনার বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনা এবং সেই সঙ্গে নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের বিরুদ্ধে ছিল গতকালের সমাবেশ।

এই সমাবেশ থেকে দাবি ওঠে, বিজেপির ‘অন্ধকার সকাল’ থেকে ‘আলোকোজ্জ্বল সকালে’ এবার ফিরিয়ে আনতে হবে এই রাজ্যকে। এই বাংলাকে।  

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই রাজ্য অসাম্প্রদায়িক এক রাজ্য। এই রাজ্য রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, নজরুল, নেতাজি সুভাষ, রাজা রামমোহন, মাস্টারদা সূর্য সেন, মাতঙ্গিনী হাজরা, বীণা দাশগুপ্ত, বেগম রোকেয়া, অমর্ত্য সেনের স্মৃতিধন্য। এখানে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে লালিত। এখানে ঠাঁই নেই ধর্মান্ধ বিজেপির। তাই আজ সময় এসেছে, এই রাজ্যে বিজেপির কালো সকাল মুছে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে লালিত এক আলোকোজ্জ্বল নতুন সকাল ফিরিয়ে আনতে হবে।

সমাবেশে চিত্রপরিচালক গৌতম ঘোষ বলেন, নারীদের উদ্দেশে যেভাবে কুরুচিকর মন্তব্য করা হচ্ছে, তা ভয়ংকর। নাগরিক সমাজকে এর বিরুদ্ধে নামতে হবে।
চিত্রকর শুভাপ্রসন্ন বলেছেন, এখন আবার সময় এসেছে মানুষকে জাগানোর। রাজ্যের ফ্যাসিস্ট শক্তিকে রুখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নাট্য অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত বলেছেন, মহাভারতের দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণের পর কিন্তু সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। নারীদের মারার কথা যাঁরা বলছেন, তাঁদের শেষের শুরু হয়ে গেছে।

নাট্যকার কৌশিক সেন বলেছেন, ‘দেশ বলতে আমি কী বুঝি, সেটা আমাদের বিজেপির কাছ থেকে শিখতে হবে না। মোদি-অমিত শাহর মতো আমাদের দেশকে ভক্তি করতে হবে না। এই দেশ ধর্মনিরপেক্ষ।’

অভিনেত্রী নুসরাত জাহান বলেছেন, ‘বাংলার বাড়িতে বাড়িতে ঝাঁটা আছে। ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে ওদের।’

অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত বলেছেন, কোনো মন্তব্যের শাস্তি ধর্ষণ হতে পারে না।

অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলেছেন, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে মুখ্যমন্ত্রীকে যখন অপমান করা হয়, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ না করে বুঝিয়ে দিলেন এতে তাঁর পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।

এই প্রতিবাদ সমাবেশে আরও যোগ দেন চলচ্চিত্র পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, রাজ চক্রবর্তী, অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী, কাঞ্চন মল্লিক, শিক্ষাবিদ অভীক মজুমদার, অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ, বাচিকশিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, নারী কমিশনের চেয়ারপারসন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেতা ঋদ্ধি সেন প্রমুখ।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন