বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘দ্য আসাম কেটল প্রিজার্ভেশন বিল, ২০২১’ শীর্ষক বিলটি গত সোমবার বিধানসভায় উত্থাপন করা হয়। একে গরু সুরক্ষা বিল বলা হচ্ছে। আসামের বিরোধী দল কংগ্রেস এই বিলের বিরোধিতা করে বলেছে, এর ফলে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

আসামে দ্বিতীয়বারের জন্য বিজেপি সরকার আসার পর প্রায় নিয়মিতই নতুন পরিকল্পনা সামনে আসছে। প্রায় নিয়মিতই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যও করছেন বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। দুই দিন আগেই যেমন তিনি বলেছেন, ‘বাইরে থেকে আসা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ সঠিক পরিবার (পরিকল্পনা) নীতি নিলে জনবিস্ফোরণ রোধ করা যাবে; দারিদ্র্য, বেআইনি জমি দখল বন্ধ করা যাবে।’

গরুবিষয়ক বিলটি পাস হলে গরু বেচাকেনার পাশাপাশি তা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া বা জবাই করা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ১৯৫০ সালের গরু সংরক্ষণ আইন ১৪ বছর বয়সের ওপরে গরু কেনাবেচার অনুমতি দেয়। তবে নতুন বিলটি পাস হলে সেটা করা যাবে না। বিলে পুলিশ প্রশাসনকে অনেকটাই বেশি ক্ষমতা দিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেকোনো ব্যক্তিগত বা জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত ‘চত্বরে প্রবেশ করতে পারবে এবং জায়গাটি পরিদর্শনও করতে পারবে’।

আসামের দুই প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও তাদের শরিক দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) গরু সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেছে। আসামের বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের দেবব্রত শইকিয়া ওই রাজ্যের সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যেকোনো জায়গায় একটা পাথর পুঁতে তার ওপরে এখানে মন্দির বানিয়ে ফেলা যায়। এখন পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে গরু বেচাকেনা বা মাংস কাটা যাবে না। কিন্তু রাতারাতি কোনো জায়গায় মন্দির গড়ে উঠলে তখন সাধারণ মানুষ কী করবে?’

আসামে অসংখ্য জাতিগোষ্ঠী, ভাষাগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এই বৈচিত্র্য আসামকে যেমন বর্ণময় করেছে। এখানকার রাজনীতির অন্যতম ইস্যু বাংলাভাষী মুসলমান সমাজের সংখ্যার বিষয়টি। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী আসামে মুসলিম জনসংখ্যা ৩৪ দশমিক ২২ শতাংশ। শতাংশের বিচারে জম্মু-কাশ্মীর বাদ দিলে ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে এটা সর্বোচ্চ।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন