বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিবন্ধের শুরুতেই সোনিয়ার প্রশ্ন, ‘ভারত কি চিরস্থায়ী মেরুকৃত হয়ে থাকবে?’ উত্তরও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘বর্তমান শাসকেরা সেটাই চায়। দেশবাসীকে তারা বোঝাচ্ছে, এতেই তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত। খাদ্য, বস্ত্র, ধর্মবিশ্বাস, উৎসব অথবা ভাষা সর্বত্র ভারতীয়দের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অশান্তি সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের সব রকমের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। বৈরিতা সৃষ্টি ও প্রতিশোধস্পৃহায় ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। সৃষ্টিশীল কাজে ব্যবহার না করে তরুণ মন বিষিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দুর্ভাগ্য।’

সোনিয়া লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মুখে বৈচিত্র্যের গাথা শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবতা এই, যে বৈচিত্র্য দেশকে ঐতিহ্যবাহী করেছে, শত শত বছর ধরে সমাজকে সমৃদ্ধিশালী করেছে, তাঁর শাসনে সেই বৈচিত্র্যকে ব্যবহার করা হচ্ছে ভেদাভেদ সৃষ্টিতে।’

দেশের অর্থনৈতিক ‘বিপর্যয়ের’ জন্য সোনিয়া পুরোপুরি দায়ী করেছেন বর্তমান শাসকদের। লিখেছেন, ‘সামাজিক অনুদারবাদের বিস্তার, ধর্মান্ধতা, ঘৃণা ও বিভেদ সৃষ্টিকারী বাতাবরণ অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। কোনো কোনো সাহসী শিল্পকর্তা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়েছেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে অনুগতদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা খড়্গহস্ত। আজ এটা আর গোপন নয় যে গত কয়েক বছরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনাবাসী ভারতীয় হয়ে যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে।’

ঘৃণার বিকাশ ঘটিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির আবহ নষ্ট করার অবিরাম প্রচেষ্টা সম্পর্কে সোনিয়া লিখেছেন, ‘দেশকে চিরকালীন উন্মত্ত রাখার এক ঘৃণ্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিরুদ্ধ মতাবলম্বীদের কঠোর হাতে দমন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিরুদ্ধাচরণ করছেন যাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্রকে। আন্দোলনকর্মীদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ষিত হচ্ছে মিথ্যাচারের বিষ। প্রশাসনের স্তম্ভ হয়ে উঠেছে ভয়, হুমকি ও প্রতারণা।’

তিনি লিখেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদি সরকার ঘটা করে ২৬ নভেম্বর দিনটিকে সংবিধান দিবস হিসেবে পালন করছে। ১৯৪৯ সালের ওই দিনে গণ পরিষদে ভারতীয় সংবিধান অনুমোদিত হয়েছিল। অথচ পদ্ধতিগতভাবে নির্জীব করে দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান। ভণ্ডামি ও কপটতা ছাড়া এ আর কিছু নয়।’

সোনিয়া এই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘ বিশ্বের চোখে আমাদের পরিচিতি কেমন হবে তা নির্ভর করবে দেশে আমরা সবাইকে নিয়ে কীভাবে চলতে পারছি। শুধু স্লোগানে নয়, বাস্তবিক অর্থে, তার ওপর।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘কেন প্রধানমন্ত্রী ঘৃণা ভাষণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেন না? সেই ভাষণ যারাই দিক, কেন গর্জে ওঠেন না? বারবার একই অপরাধ করে যাওয়া ব্যক্তিরা বাধাহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়! বরং মনে হয় তারা সরকারি স্তরের বিভিন্ন পর্যায় থেকে উৎসাহ পায়। সেই কারণে অপরাধযোগ্য ভাষণের পরেও পার পেয়ে যায়।’ কড়া ভাষায় সোনিয়া বলেন, ‘একটা সমাজ, যা কিনা একদর্শী ভাবনা শেখায়, তা মুক্তমনা হতে পারে না। কপাটবদ্ধ মন উর্বর হয় না। নতুন ভাবনার বিকাশ ঘটায় না।’

সোনিয়ার এই দীর্ঘ নিবন্ধ সেই সময় লেখা যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ভারতের অভ্যন্তরীণ অবস্থা, বিশেষ করে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এই বিষয়ে কথা শুনতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যেই এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা বলেছেন, তাঁরাও যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য দেশের মানবাধিকার নিয়ে খোঁজখবর রাখেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন