ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম বলেছেন, বিজেপি-আরএসএসের সমন্বিত প্রয়াসের কাছে তাঁর দল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো এখন ‘কিছুই না’। কিন্তু আঞ্চলিক পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এবং তামিলনাড়ুতে এআইএডিএমকের মতো দলের সাংগঠনিক কাঠামোর কাছে বিজেপি-আরএসএস বেশি সুবিধা করতে পারবে না।
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির আদর্শগত এবং রাজনৈতিক মিত্র রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)।
উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পরিপ্রেক্ষিতে চিদাম্বরম বলেন, ‘আজ এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, বিজেপি-আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামোর তুলনা চলে না। তারা (বিজেপি-আরএসএস) ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে পেরেছে।’
তবে উত্তর প্রদেশের ভোট নরেন্দ্র মোদির নোট বাতিলের নীতির পক্ষে ভোট, এমন দাবি মানতে নারাজ চিদাম্বরম। তিনি বলেন, যদি এমন দাবি করা হয়, তাহলে বলতে হবে, পাঞ্জাবে লোকে নোট বাতিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই ধরনের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া ‘পাগলামি’।
চিদাম্বরম বলেন, ‘এখন কংগ্রেসের মূল চ্যালেঞ্জ জাতীয় নির্বাচন। সেখানে ভোট হবে ২৯ প্রদেশে। ফলে দলের কাজ ২৯ গুণ কঠিন হয়ে গেল। আমি দলের নেতাদের বলেছি, জাতীয় নির্বাচনে প্রদেশভিত্তিক ২৯টি কৌশল বের করতে।’
সাবেক অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ভারতে গণতন্ত্র এখনো পরিপক্ব হয়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, ‘এখনো আমাদের অনশন করে প্রতিবাদ করতে হয়। রাস্তায় নামতে হয় সরকারের বিরুদ্ধে। এতে বোঝা যায়, আমাদের গণতন্ত্র এখনো পরিপক্ব হয়নি। আমাদের গণতন্ত্র কেন অনশন কিংবা রাস্তার প্রতিবাদের বাইরে অন্য ধরনের প্রতিবাদ গ্রহণ করে না? বিরোধীদের পরিসর সংকুচিত হয়ে আসছে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, দলিত শ্রেণি এবং এনজিও—সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন