default-image

লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রোড শো চলাকালীন কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে হামলা ও বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। আজ বুধবার সকাল থেকে রাজ্যের সর্বত্র তৃণমূল ছাত্রপরিষদ ও তৃণমূলের ডাকে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল চলছে। পাশাপাশি চলছে অবস্থান ধর্মঘটও।

বুধবার সকাল থেকে তৃণমূল ছাত্রপরিষদের উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরাও। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শাস্তি প্রদানের দাবি জানান তাঁরা।

তৃণমূলের দাবি, গতকাল মঙ্গলবার অমিত শাহের রোড শো চলার সময় বিজেপির মিছিল থেকে বিদ্যাসাগর কলেজে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় বিদ্যাসাগরের মূর্তি। কলেজের অফিসেও ভাঙচুর চালানো হয়। তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর পরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলকাতাসহ গোটা রাজ্যের রাজনীতি।

তবে বিজেপির পাল্টা দাবি, অমিত শাহের রোড শো ছিল শান্তিপূর্ণ। রোড শো টি কলেজ স্ট্রিট দিয়ে যাওয়ার সময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদই প্রথমে অমিত শাহর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং তাঁকে কালো পতাকা দেখায়। তাঁরা অমিত শাহের মিছিলে ইট-পাটকেল ছোড়ে বলেও অভিযোগ বিজেপির। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিজেপির দাবি, তৃণমূলই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করে এখন বিজেপির ওপর দায় চাপাচ্ছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তও দাবি করেছে বিজেপি।

এদিকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে আজ বুধবার কলকাতার কলেজ স্কয়ার থেকে হেদুয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল বের করে বামফ্রন্ট। মিছিলে যোগ দেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ কারাত, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রমুখ। প্রতিবাদ মিছিলে বলা হয়, বিজেপি আর তৃণমূলের শাসনে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে, গণতন্ত্রও লুণ্ঠিত হয়ে পড়েছে। তাঁরা অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছে।

এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেছেন, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও এই ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তৃণমূলের সমর্থকরাই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে এখন বিজেপির ওপর দোষ চাপাচ্ছে । সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই দোষীদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।

এই ভাঙচুরের ঘটনায় জোড়াসাঁকো থানায় দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ ৫৮ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে। এদিকে এই ঘটনার জেরে বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুরের বীর সিং গ্রামে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শাস্তি প্রদানের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0