বিদ্রোহী ৯ মন্ত্রীর দপ্তর কেড়ে নিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী

ভারতের মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে
ছবি: এএনআই

ভারতের মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ৯ বিদ্রোহী মন্ত্রীর দপ্তর কেড়ে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। খবর এনডিটিভির।

মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে আজ সোমবার তাঁর মন্ত্রিসভার নয়জন বিদ্রোহী মন্ত্রীর দপ্তর কেড়ে নেন। এই দপ্তরগুলো তাঁর অনুগত অন্য মন্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করেছেন তিনি।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে বিদ্রোহী মন্ত্রীদের দপ্তর অন্য মন্ত্রীদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও শিবসেনাপ্রধান উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন তাঁর দলের বেশ কিছুসংখ্যক মন্ত্রী-বিধায়ক। শিবসেনার বিদ্রোহী মন্ত্রী-বিধায়কদের নেতৃত্বে আছেন একনাথ শিন্ডে। তিনি মহারাষ্ট্রের পূর্ত ও নগর উন্নয়নমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

শিন্ডের নেতৃত্বে শিবসেনার বিদ্রোহীরা পাঁচ দিন ধরে বিজেপিশাসিত আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান করছেন।

শিন্ডের দাবি, তাঁর প্রতি মহারাষ্ট্রের ৫০ জনের বেশি বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন শিবসেনার বিধায়ক।

শিবসেনার ১৬ বিদ্রোহী বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণার পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনের ওপর আজ দেশটির সুপ্রিম কোর্টে শুনানি। সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি করেছেন শিন্ডে।

মহারাষ্ট্র বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার নরহরি জিরওয়ালের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়টিও চ্যালেঞ্জ করেছে শিন্ডে শিবির।

শিন্ডের আবেদনে নরহরিকে অপসারণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিদ্রোহী বিধায়কদের অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকারের পদে ইস্তফা দেন কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে। তার পর থেকে মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকারের আসনটি শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় বিধায়কদের অযোগ্যতার বিষয়টি বিচার করার মতো কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নেই।

অবশ্য প্রবীণ আইনজীবী দেবদত্ত কামাতের মতে, স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বিচার করার সব ক্ষমতা ডেপুটি স্পিকারের রয়েছে। দেবদত্ত শিবসেনার আইনি উপদেষ্টা।

শিন্ডেসহ শিবসেনার ১৬ বিদ্রোহী বিধায়ক গত সপ্তাহে দলীয় সভায় অনুপস্থিত থাকেন। এ কারণে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করে শিবসেনা।

শিবসেনার ১৬ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে ইতিমধ্যে ‘শোকজ’ নোটিশ দিয়েছেন মহারাষ্ট্র বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার নরহরি।

দলত্যাগ রোধ আইন অনুযায়ী, কেন এই ১৬ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে তাঁদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

আজকের মধ্যে এই বিধায়কদের প্রত্যেককে সশরীর হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুম্বাইয়ে হাজির হয়ে তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে। তা না করলে তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। সদস্যপদ বাঁচাতে ১৬ বিদ্রোহী বিধায়ক সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন।

সম্প্রতি শিন্ডে তাঁর ২১ জন অনুগামী ও ১ জন স্বতন্ত্র বিধায়ককে নিয়ে সবার অলক্ষ্যে পৌঁছে যান বিজেপিশাসিত গুজরাটের সুরাট শহরে। ক্রমেই তাঁর সঙ্গীসংখ্যা বাড়তে থাকে। পরে তাঁরা গুজরাট ছেড়ে চলে যান আরেক বিজেপিশাসিত রাজ্য আসামের গুয়াহাটিতে।

বিদ্রোহীরা বলছেন, তাঁরা চান, শিবসেনা তার ‘অস্বাভাবিক মিত্র’ কংগ্রেস ও এনসিপি ছেড়ে বেরিয়ে আসুক। শিবসেনা তার ‘স্বাভাবিক মিত্র’ বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার চালাক।

শিন্ডে-অনুগামীদের দাবি, ‘অস্বাভাবিক’ জোটের কারণে শিবসেনার ক্ষতি হচ্ছে। লাভ হচ্ছে কংগ্রেস-এনসিপির। শিবসেনা বরাবর হিন্দুত্ববাদী ও জাতীয়তাবাদী দল। হিন্দুত্ববাদ থেকে সরে এসে শিবসেনা তার চরিত্র হারিয়ে ফেলছে।

মহারাষ্ট্র বিধানসভার ভোট হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে। ২৮৮ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় বিজেপি পায় ১০৬ আসন। শিবসেনা পায় ৫৬ আসন। শারদ পাওয়ারের এনসিপি পায় ৫৪ আসন। কংগ্রেস পায় ৪৪ আসন।

মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিতে অনড় থেকে শিবসেনা শেষ পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে এনসিপি ও কংগ্রেসের সমর্থনে গঠন করে ‘মহা বিকাশ আগাড়ি’ জোট সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হন শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। আড়াই বছর কাটতে না কাটতেই এ সরকার বিদ্রোহের মুখে পড়ল।