হায়দরাবাদ থেকে নির্ধারিত সময়েই দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি। বিমানের আরোহীদের মধ্যে ছিলেন ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক। কিন্তু শেষ সময়ে ঘটে যায় বিপত্তি। বিমানের আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ আরোহী রাজ্যসভার সদস্য রেণুকা চৌধুরী সঠিক সময়ে না আসায় বিমানটি ৪৫ মিনিট দেরিতে ছাড়ে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকায় রেণুকা চৌধুরী সঠিক সময়ে বিমানবন্দরে যেতে পারেননি।

তেলেঙ্গানার জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা রেণুকা চৌধুরী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিমানবন্দরের বহির্গমন ফটকে মালপত্র বহনের একটি গাড়ির জন্য তিনি অনুরোধ করেছিলেন। গাড়িটি সময়মতো না আসায় তাঁর দেরি হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে জানানো হয়, গত শুক্রবার সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য (এমপি) রেণুকা চৌধুরী হায়দরাবাদ থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার শিকাগো-দিল্লি-হায়দরাবাদগামী বিমানের এআই-১২৬ নম্বর ফ্লাইটে ওঠেন। বিমানটি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল সাতটায়। বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা ফ্লাইট ছাড়ার চূড়ান্ত সময়ে বারবার রেণুকা চৌধুরীকে আসার জন্য ডাকাডাকি করেন। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাননি। তাই ৪৫ মিনিট দেরিতে ফ্লাইটটি ছাড়ে।

বিমানবন্দর সূত্রের দাবি, আগেই রেণুকার মালপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছিল। এতে এয়ার ইন্ডিয়ার তাঁর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রেণুকা চৌধুরী বিমানবন্দরের কাছের কয়েকটি দোকানে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন। তবে রাজ্যসভার সদস্য রেণুকা চৌধুরীর দাবি, তিনি যে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন তা বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের প্রমাণ করতে হবে। তাঁদের কাছে এর কোনো প্রমাণ নেই।

রেণুকার ভাষ্য, বিমানবন্দরের বহির্গমন গেটে মালপত্র বহনের একটি গাড়ির জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি আসতে দেরি করে। রেণুকা চৌধুরীর জন্য বিমান দেরিতে যাত্রা শুরু করায় যাত্রীদের মধ্যে চরম বিরক্তি দেখা দেয়। তাঁরা এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করে বলে সূত্র জানায়।

এয়ার ইন্ডিয়ার সূত্র জানায়, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করা দরকার। এ ঘটনার পর ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় এয়ার ইন্ডিয়াকে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মালপত্র শনাক্ত করার পদ্ধতি বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলে সব যাত্রীর মালপত্র শনাক্ত করা সম্ভব হবে। যাঁরা নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবেন না, তাঁদের আলাদা তালিকায় রাখাও সহজ হবে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন