বিরোধীদের বিক্ষোভ ও প্রতিরোধের মাঝেই জমি অধিগ্রহণ বিল পেশ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী বীরেন্দ্র সিং লোকসভায় এই বিতর্কিত বিল পেশ করে বলেন, বিরোধীরা যে যে কারণে আপত্তি জানাচ্ছেন, তা আলোচনার সময় শোনা যেতে পারে।

বিল উত্থাপনের বিরোধিতা করে কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। রাজ্যসভায় কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বাম, সমাজবাদী পার্টিসহ অন্য বিরোধী দল এককাট্টা হয়ে সরকারের সমালোচনা করে। তাঁরা বলেন, সংসদকে এড়িয়ে অধ্যাদেশ এনে এই সরকার কৃষি ও কৃষকবিরোধী মানসিকতারই পরিচয় রেখেছে।

বিরোধিতা শুধু সংসদের উভয় কক্ষেই নয়, সংসদ ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে যন্তর মন্তরে প্রবীণ গান্ধীবাদী আন্না হাজারে গতকাল সোমবার থেকে দুই দিনের ধরনা শুরু করেছেন। তাঁর দাবি, কৃষিবিরোধী এই বিল প্রত্যাহার করতে হবে। আন্না হাজারের ধরনা মঞ্চে আজ হাজির হন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ আম আদমি পার্টির সব বিধায়ক। আন্নার সমর্থনে তাঁরাও বিল প্রত্যাহারের দাবিতে গলা মেলান। তামিলনাড়ুর দল ডিএমডিকে নেতা ভাইকো, সিপিআই নেতা অতুল অঞ্জানকেও ধরনা মঞ্চে দেখা যায়। এই প্রথম আন্না হাজারে তাঁর আন্দোলনে রাজনৈতিক নেতাদের আসতে অনুমতি দিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় কেজরিওয়াল তাঁর সঙ্গে দেখা করলে তিনি তাঁকে ধরনা মঞ্চে স্বাগত জানান। যুক্তি হিসেবে আন্না বলেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়।
আন্না হাজারের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘও (আরএসএস)। সংঘ নতুন জমি বিল নিয়ে অখুশিও। সাংগঠনিক স্তরে এই খবর পৌঁছেও দেওয়া হয়েছে। এর পরেই বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ নড়েচড়ে বসেন। জমি বিল নিয়ে আপত্তি কোথায় তা জানতে গতকাল তিনি আট সদস্যের এক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটি বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলবে। গতকাল দুপুরে এই কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার, বিলটি নিয়ে দল ও সরকারে নতুন ভাবনা শুরু হয়েছে। বিজেপির শরিক লোক জনশক্তি পার্টি ও পাঞ্জাবের অকালি দলও এই বিল নিয়ে চিন্তিত। তারাও সরকারকে সতর্ক পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অবশ্য এখনো অনড়। আজ সকালে বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে মোদি বলেন, বিল নিয়ে সরকারের পিছু হটার কোনো কারণ নেই। কেননা, এই বিল কৃষকদের উপকার করবে যেমন, তেমনই এই বিলের ফলে জমি অধিগ্রহণও সহজতর হবে। কংগ্রেস সরকার যে বিলটি পাস করেছিল, তা দিয়ে শিল্প ও অন্য প্রয়োজনে জমি নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে রেল, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ২০ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ঝুলে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন