বিজ্ঞাপন

এ স্বীকারোক্তির পেছনে রয়েছে পাটনা হাইকোর্ট। বিহার সরকারকে তা করতে বাধ্য করেছেন তাঁরা। অভিযোগ ছিল, বহু রাজ্যের মতো বিহার সরকারও কোভিডে প্রকৃত মৃত্যুর তথ্য চেপে যাচ্ছে, মৃতের সংখ্যা কম দেখাচ্ছে। অভিযোগের সত্যাসত্য যাচাইয়ে পাটনা হাইকোর্ট বিষয়টি নিয়ে অডিটের নির্দেশ দেন। অডিটে দেখা যায়, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১–এর মার্চ পর্যন্ত এক বছরে রাজ্যে করোনায় মারা গিয়েছিলেন ১ হাজার ৬০০ জন। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এ বছরের এপ্রিল থেকে ৭ জুন পর্যন্ত মারা গেছেন ৭ হাজার ৭৭৫ জন। অথচ রাজ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, মৃতের সংখ্যা দেখাচ্ছিল সাড়ে ৫ হাজার। পর্যালোচনার পর জানা গেল, রাজ্যে মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ। এসব মৃত্যুর অধিকাংশই রাজধানী পাটনায়। বাড়তি এই হিসাব জুড়ে যায় গত ২৪ ঘণ্টার মৃত্যুতালিকায়। ফলে তৈরি হয় নতুন রেকর্ড।

বিহার সরকার অডিট রিপোর্টের তথ্য জানালেও উত্তর প্রদেশসহ বিজেপিশাসিত অনেক রাজ্য এখনো সেই রাস্তায় হাঁটেনি। এ নিয়ে অভিযোগ বিস্তর। বিশেষ করে গোবলয়ে প্রবাহিণী গঙ্গাসহ অন্যান্য নদীতে যেভাবে অগুনতি লাশের ভেসে যাওয়ার ছবি প্রচারিত হয়েছে, গঙ্গাতীরে লাশ পুঁতে দেওয়া বা জ্বালানোর ছবি দেখা গেছে, সেতুর ওপর থেকে নদীতে লাশ ফেলে দিতে দেখা গেছে, তাতে স্পষ্ট, সরকার-প্রশাসন অনেক কিছু লুকাতে চায়। এ নিয়ে রাজনৈতিক স্তরে কথা চালাচালিও হচ্ছে অনেক। এমন প্রশ্ন তোলার জন্যই রাহুলকে শকুনের সঙ্গে তুলনীয় হতে হয়েছে।

প্রশ্নটা অবশ্য প্রথম তোলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। গত ২৫ মে তারা এক প্রতিবেদনে ভারতে কোভিডে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলে, সরকারি হিসাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ২৩১ হলেও বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা হবে অন্তত ৬ লাখ।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন