বিহার সরকারের সংকট কীভাবে ও কত দ্রুত কাটবে, গতকাল সোমবার তা স্পষ্ট হলো না। মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঝি এবং তাঁকে সরিয়ে আরও একবার মুখ্যমন্ত্রিত্ব ফিরে পেতে আগ্রহী নীতিশ কুমার—দুজনই রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়ে গরিষ্ঠতা প্রমাণের দাবি জানিয়েছেন। রাজ্যপাল কী করবেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তা জানাননি। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী অস্থায়ীভাবে আপাতত বিহারের দায়িত্বে রয়েছেন। গতকালই তিনি কলকাতা থেকে বিহারের রাজধানী পাটনায় পৌঁছান। দুপুরেই রাজ্য নেতারা আলাদাভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবি পেশ করেন।
লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার পদত্যাগ করে জিতন রামকে ক্ষমতায় বসান। কিন্তু ‘মহাদলিত’ সম্প্রদায়ের নেতা ক্রমেই নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে নীতিশদেরই চ্যালেঞ্জ জানাতে থাকেন। জিতনকে বিদ্রোহী হতে মদদ দিতে থাকে বিজেপি। এর পরই জনতা দল (সংযুক্ত) নেতারা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। শুরু হয় রাজ্যে রাজনীতির সংকট। জিতনকে ইস্তফা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। জিতন রাম সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করে নীতিশ-সমর্থক দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করেন। এ অবস্থায় গত শনিবার জনতা দল (সংযুক্ত) পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকে নীতিশ কুমারকে নতুন নেতা নির্বাচিত করা হয়। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জিতন রামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গতকাল রাজ্যপালের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন নীতিশ কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জনতা দলের সভাপতি শরদ যাদব ও সহযোগী রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা লালুপ্রসাদ। রাজ্যপালকে তাঁরা বলেন, তাঁদের সঙ্গে ১৩০ জন বিধায়ক রাজভবনের বাইরে অপেক্ষা করছেন। এঁরা সবাই নীতিশকে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে আগ্রহী। এই মহলের আরজি, রাজ্যপাল যেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেন। জনতা দলের নেতারা জানিয়েছেন, তা করা না হলে সমর্থক বিধায়কদের নিয়ে তাঁরা দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির কাছে দরবার করবেন। নীতিশদের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজ্যপালও চান ২০ ফেব্রুয়ারির আগে সংকট মেটাতে। ওই দিন থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু।
নীতিশদের পরে রাজ্যপালের কাছে যান জিতন রাম মাঝি। রাজ্যপালকে তিনি বলেছেন, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে তিনি প্রস্তুত। দ্রুত যেন তার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি এ কথাও বলেন, শাসক দলের পরিষদীয় নেতা এখন পর্যন্ত তিনিই। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকার অধিকারী একমাত্র তিনিই। ফলে যে বৈঠক ডেকে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে, তা অবৈধ।
বিহার বিধানসভার সদস্যসংখ্যা ২৪৩। সরকার গড়তে দরকার অন্তত ১২২ জনের সমর্থন। জনতা দলের (সংযুক্ত) সদস্যসংখ্যা ১১১। এঁদের মধ্যে ১০-১২ জন জিতন রামের সঙ্গে রয়েছেন বলে খবর। নীতিশদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে লালুর দলের ২৪ ও কংগ্রেসের ৫ জনের সমর্থন আছে। মোট অন্তত ১৩০ জনের সমর্থন তাঁদের পক্ষে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন