বৈঠকের পর মোদিকে পাশে রেখে বরিস সাংবাদিকদের বলেন, এই বছর দীপাবলির আগেই দুই দেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলার জন্য তিনি সরকারি কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। দুই দেশ ইতিমধ্যে বেশ কিছু পণ্যের শুল্ক হ্রাস করেছে। এ চুক্তি হয়ে গেলে দুই দেশের বাণিজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনেও আগ্রহী।

এ সফরে দুই প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন সংকট নিয়েও কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘শান্তিপূর্ণ আলাপ–আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার’ মধ্য দিয়ে বিবাদের অবসানের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেন।

এ সংঘাত যে মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জনসন এ প্রসঙ্গে বলেন, জি–৭ বৈঠকের পর থেকে কর্তৃত্ববাদী আচরণ বেড়ে গেছে। ইউক্রেন নিয়ে ভারতের বাধ্যবাধকতা তিনি বুঝতে পেরেছেন বলে জানান। বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। এটা সবারই জানা। ইউক্রেন সম্পর্কে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। তারা চায় রাশিয়া ওই দেশ থেকে বেরিয়ে যাক এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক।

ইউক্রেন সংকটে রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান যতটা প্রত্যক্ষ ও প্রকট, ভারতের তা নয়। যুক্তরাজ্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ভারত ভারসাম্যের নীতি রক্ষা করে চলেছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের জানান, ভারত তার দিক থেকে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে, যেমন যুক্তরাজ্য তার অবস্থান জানিয়েছে।

বরিস জনসন গত বৃহস্পতিবার সকালে গুজরাট পৌঁছান। রাজধানী গান্ধীনগর থেকে তিনি যান বরোদায় যুক্তরাজ্যের সংস্থা জেসিবির দপ্তরে। এ সংস্থা আর্থ মুভার, বুলডোজারের মতো ভারী যন্ত্র তৈরি করে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ২০ মিনিটের আকাশপথ পাড়ি দেওয়ার জন্য রাশিয়ার তৈরি ‘এমআই–১৭’ হেলিকপ্টার তৈরি রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে তার বদলে আনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘চিনুক’ হেলিকপ্টার। এই বদল যুক্তরাজ্যের আপত্তির দরুন কি না, সে বিষয়ে কোনো সরকারি মন্তব্য অবশ্য জানা যায়নি।

এদিকে গুজরাটের অভ্যর্থনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজেকে অমিতাভ বচ্চন ও শচীন টেন্ডুলকারের মতো ভাগ্যবান বলে মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গুজরাটের অভ্যর্থনায় আমি মুগ্ধ। রাস্তায় রাস্তায় হোর্ডিংয়ে নিজের ছবি দেখে ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকার ও বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের মতো লাগছিল।’ প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তিনি তাঁর ‘খাস দোস্ত’ বা বিশেষ বন্ধু বলেও সম্বোধন করেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন