default-image

দ্য ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএমএ) ভারতীয়দের বেশি চিনি খেতে উৎসাহ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি এ নিয়ে প্রচার শুরু করেছে। আইএসএমএ বলছে, তারা শরীরে চিনির কেবল ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে—এমন ধারণায় বদল আনতে চায়। চিনির অতিরিক্ত সরবরাহের ধাক্কা সামলাতেই এমন ব্যবস্থা নিয়েছে আইএসএমএ।  

বিবিসির খবরে জানা যায়, ভারতীয়রা বছরে গড়ে প্রায় ১৯ কেজি চিনি খায়। বিশ্বে গড় চিনি খাওয়ার তুলনায় এই হার কম। এরপরও দেশটি বিশ্বের মধ্যে মিষ্টিজাতীয় খাবারের সবচেয়ে বড় ভোক্তা।  

ভারতে চিনির উৎপাদন এ বছর ১৩ শতাংশ বাড়তে পারে।  সরকার আবার এর মধ্যে রপ্তানি ভর্তুকি বন্ধ করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইএসএমএর নতুন ওয়েবসাইটে ‘খাও, পান করো ও সুস্থ থাকো: অল্প চিনি খাওয়া খারাপ নয়’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট প্রচার করা হয়। সেখানে তারকা পাচক ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষকেরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা করেন।

অনলাইন প্রচারে মিষ্টিজাতীয় খাবারের রেসিপি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম সুইটনার ওজন কমাতে সহায়তা করে না।

ওয়েবসাইট উদ্বোধনের সময় ভারতের খাদ্যসচিব সুধাংশু পান্ডে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, চিনির উপকারিতা যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয় না। তিনি আরও বলেন, চিনি নিয়ে বিভিন্ন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

আইএসএমএর এই ক্যাম্পেইন অন্য দেশের চিনিসংক্রান্ত ক্যাম্পেইনগুলোর চেয়ে আলাদা। অন্যান্য দেশে চিনির নানা ক্ষতিকর প্রভাব হিসেবে স্থূলতা, ডায়বেটিস প্রভৃতি রোগের কথা বলা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খাবার ও পানীয়তে মেশানো চিনি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মধু ও ফলের রসেও চিনি থাকে।

ভারতের প্রায় পাঁচ কোটি কৃষক আখ চাষের সঙ্গে জড়িত। ১০ লাখেরও বেশি মানুষ চিনির কারখানা অথবা আখ পরিবহনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। ভারতের চিনি বিদেশে বিক্রির জন্য সরকার ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে অন্য চিনি উৎপাদনকারী দেশগুলো এর বিরোধিতা করেছে।

অতিরিক্ত চিনি ইথানলে রূপান্তরিত করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারেরও উপায় রয়েছে।
আইএসএমএ অনুমান করছে, ইথানলের উৎপাদন এ বছর ১৯০ কোটি লিটার থেকে বেড়ে আগামী বছর ৩০০ কোটি লিটার হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0