বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তর প্রদেশে এবারের ভোটে শাসক বিজেপির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। হাওয়া মোরগের মতো দলত্যাগীদের আচরণ ইঙ্গিতবাহী হলে বলা যেতে পারে বিজেপিকে টক্কর দিতে এবার প্রস্তুত অখিলেশ যাদবের দল। এই প্রথমবার উত্তর প্রদেশের তৃতীয় শক্তি বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) শক্তিহীন। দলনেত্রী মায়াবতী নির্বাচনে দাঁড়াবেন না। মঙ্গলবারই সে কথা জানিয়ে দেন দলের শীর্ষ নেতা সতীশ মিশ্র। বিএসপি থেকে ইদানীং যাঁরা ইস্তফা দিয়েছেন, সবাই যোগ দিয়েছেন এসপিতে। মঙ্গলবার একসঙ্গে চার বিজেপি বিধায়কের পদত্যাগ ঘটল ঠিক সেই সময়, যখন দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের সঙ্গে ভোট কৌশল ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে বৈঠক করছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

অখিলেশ যাদব তাঁদের স্বাগত জানিয়ে টুইট করে বলেন, ‘সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সৈনিক স্বামীপ্রসাদ ও অন্যদের এসপিতে স্বাগত। সবাইকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা। সামাজিক ন্যায়বিচারের বিপ্লব হবে। পরিবর্তন আসবে বাইশে।’

স্বামীপ্রসাদ ছয়বারের বিধায়ক। ২০১৬ সালে বিএসপি ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। পরের বছর ভোটে জেতেন। এবারও ভোটের আগে যোগ দিলেন এসপিতে। তাঁর সঙ্গে যাঁরা বিজেপি ছাড়লেন, প্রত্যেকেই প্রভাবশালী অনগ্রসর নেতা।

জাতের নিরিখে ‘ক্ষত্রিয়’ আদিত্যনাথের রাজত্বে অনগ্রসর ও ব্রাহ্মণরা অখুশি। তাঁরা অবহেলিত মনে করছেন। পরিস্থিতির সামাল দিতে বিজেপির শীর্ষ অনগ্রসর নেতা কেশব প্রসাদ মৌর্যকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল। অন্য অনগ্রসরদের আনা হয়েছিল বিভিন্ন দায়িত্বে। দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্ব দেওয়া হচ্ছিল ব্রাহ্মণদের। কংগ্রেস ভাঙিয়ে বিজেপিতে আনা হয়েছিল ব্রাহ্মণ নেতা জিতিন প্রসাদকে। কিন্তু তাতেও যে বিশেষ লাভ হচ্ছে না, তা মঙ্গলবারের গণহারে দলত্যাগে প্রমাণ। এর আগে বিজেপির শরিক সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি নেতা ওমপ্রকাশ রাজভর জোট বেঁধেছেন এসপির সঙ্গে। তিনিও ক্ষমতাশালী অনগ্রসর নেতা। পশ্চিম উত্তর প্রদেশের প্রভাবশালী জাট নেতা জয়ন্ত চৌধুরীর রাষ্ট্রীয় লোকদলও জোট করেছে এসপির সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ অবশ্যই চাপে।

সোমবার এসপিতে যোগ দেন কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা দিল্লির ভারপ্রাপ্ত এআইসিসির সম্পাদক ইমরান মাসুদ। সাহারানপুর জেলার এই নেতা ছিলেন পশ্চিম উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের সেরা মুখ। কংগ্রেসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই দল আমাকে অনেক দিয়েছে। কিন্তু এবারের লড়াই বিজেপির সঙ্গে এসপির। সেই কারণে এসপিতে যোগ দিতে বাধ্য হলাম।’ ইমরান মাসুদের ওই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট, ফেব্রুয়ারির ভোটে রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায় বিজেপিকে হারাতে এসপিকেই বেছে নিতে চলেছে। সে ক্ষেত্রে বিএসপির দিকে ঝুঁকে থাকা মুসলমান সমর্থনও এসপিতে চলে আসতে পারে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন