বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেনারেল রাওয়াত বলেন, বিশ্বাসের প্রবল ঘাটতি ও পারস্পরিক সন্দেহের দরুন ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের মীমাংসা হতে পারছে না। গত বছরের জুন মাসে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) অবস্থানের বিষয়ে দুই দেশের বাহিনী এখনো একমত হতে পারেনি। দুই দেশের সেনাদের মধ্যে ১৩টি বৈঠকেও এর মীমাংসা হয়নি। বিশ্বাসের ঘাটতিই এর কারণ বলে তিনি মনে করেন। ওই সংঘর্ষের পর থেকেই প্রতিরক্ষার নজর পাকিস্তানের দিক থেকে সরে চীন সীমান্তে প্রাধান্য পেয়েছে।

হিমালয়জুড়ে এলএসি বরাবর দুই দেশের সামরিক তৎপরতা সেই সংঘর্ষের পর থেকে বেড়ে গেছে। এর উল্লেখ করে জেনারেল রাওয়াত বলেন, সীমান্ত ও সমুদ্রে যেকোনো দুঃসাহসিক কাজের সমুচিত জবাব দিতে ভারত প্রস্তুত।

চীনের দিক থেকে বেশি বিপদের আশঙ্কায় ভারত হিমালয়ের পাদদেশে অবকাঠামো জোরদার করার দিকে বেশি নজর দিয়েছে। ওই অঞ্চলে সড়ক সংযোগ আধুনিক ও প্রশস্ত করার কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। সড়ক প্রশস্ত করতে গেলে হিমালয়ের প্রকৃতির যে বিপুল ক্ষতি হবে, তা রুখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পরিবেশবাদীরা। এই মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা উপেক্ষা করার নয়। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে হিমালয়ের এই অঞ্চলের সড়ক এতটাই প্রশস্ত করা প্রয়োজন, যাতে ‘ব্রহ্মস’-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তে নিয়ে যাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, চীন ও ভারতের মধ্যবর্তী প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ। এ নিয়ন্ত্রণরেখাকে ১৯৫৯ সালে চীন ‘ডি ফ্যাক্টো’ সীমান্তরেখা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে এটি সুস্পষ্টভাবে দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত করতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ, এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থা এবং পর্বতসংকুল অঞ্চলে জরিপ ও সীমানা নির্ধারণে প্রতিকূলতা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার আশপাশে গত এক দশকে দেশ দুটি কর্তৃক ব্যাপকভাবে রাস্তা, সেতু, রেল লিংক ও এয়ার ফিল্ড নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন