বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) ও অন্যান্য বিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনা করা উচিত বলে উল্লেখ করেন রাকেশ।

আজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দেন যে তাঁর সরকার তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোদির এই ঘোষণার পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান রাকেশ।

গত বছরের নভেম্বর থেকে তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে আন্দোলন করে আসছেন দেশটির কৃষকেরা। তাঁরা দেশটির রাজধানী পর্যন্ত অবরুদ্ধ করেন।
কৃষকদের টানা আন্দোলন সত্ত্বেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আইন বহাল রাখার পক্ষে অনড় অবস্থান নেয়। সমস্যার সমাধানে কৃষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের দফায় দফায় বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো পক্ষ ছাড়া না দেওয়ায় এত দিন কোনো সমাধান আসেনি।

অবশেষে কৃষকদের আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি এই তিন আইন প্রত্যাহারের বিষয়ে তাঁর সরকারের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

মোদির ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় রাকেশ বলেন, কৃষকদের চলমান আন্দোলন এখনই প্রত্যাহার করা হবে না। তাঁরা সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করবেন, যেদিন পার্লামেন্টে এই তিন আইন বাতিল করা হবে।

তিন কৃষি আইন

দেড় বছর আগে কোভিড পরিস্থিতির সময় এই তিন কৃষি আইন প্রণয়নে কেন্দ্র অধ্যাদেশ জারি করেছিল। তারপর গত বছরের সেপ্টেম্বরে সংসদের খণ্ডকালীন অধিবেশনে প্রায় বিনা আলোচনায় বিরোধীদের দাবি উপেক্ষা করে তিন আইন পাস করানো হয়।

প্রথমটি ‘অত্যাবশ্যক পণ্য (সংশোধনী) আইন’ বা ‘দ্য এসেনশিয়াল কমোডিটিজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট’। দ্বিতীয়টি ‘কৃষি পণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন আইন’ বা ‘ফারমার্স প্রডিউস ট্রেড অ্যান্ড কমার্স (প্রমোশন অ্যান্ড ফ্যাসিলিয়েশন) অ্যাক্ট’। তৃতীয়টি ‘কৃষক সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন (মূল্য এবং কৃষি পরিষেবাসংক্রান্ত) আইন’ বা ‘ফারমার্স (এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন) অ্যাগ্রিমেন্ট অন প্রাইস অ্যান্ড ফার্ম সার্ভিসেস অ্যাক্ট’।

মোদি সরকারের দাবি ছিল, মূলত তিনটি উদ্দেশ্য পূরণের জন্য এই তিনটি কৃষি আইন কার্যকর করা হচ্ছে। প্রথমটি হচ্ছে কৃষিক্ষেত্রে ফড়িয়া বা দালালদের আধিপত্য কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানো। দ্বিতীয়টি হচ্ছে রাজ্যগুলোতে চুক্তিভিত্তিক চাষের ব্যবস্থা আইনসিদ্ধ করা ও তৃতীয়টি হচ্ছে কৃষিপণ্য বিপণন নিয়ে যে আইন রয়েছে, তা দূর করে আন্তরাজ্য কৃষিপণ্যের অবাধ বাণিজ্যের রাস্তা খুলে দেওয়া।

অত্যাবশ্যক পণ্য (সংশোধনী) আইনের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সরাসরি কৃষকদের থেকে কৃষিপণ্য কিনে মজুত ও বিক্রির অধিকার দেওয়া হয়।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন