বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ চারটি কারণে আসতে পারে বলে মনে করেন সমীরণ।

প্রথমত, প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় অর্জিত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া।

দ্বিতীয়ত, অর্জিত রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম করোনার ধরনের (ভেরিয়েন্ট) আগমন।

তৃতীয়ত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে না পারলেও জনসাধারণের মধ্যে দ্রুত ছড়াতে সক্ষম, করোনার এমন নতুন ধরনের জন্ম।

চতুর্থত, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য যদি যথাসময়ের আগেই করোনাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বুধবার বলেন, বিশ্ব এখন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ডব্লিউএইচও আরও বলে, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয়ই বাড়ার পেছনে মুখ্য কারণ হিসেবে কাজ করছে ডেলটা ধরনের বিস্তার, সামাজিক গতিশীলতা বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রমাণিত ব্যবস্থাগুলোর সামঞ্জস্যহীন ব্যবহার।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ হাজার ৯৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন ৫৪২ জন। সর্বশেষ তথ্য নিয়ে ভারতে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৩ কোটি ১০ লাখ ২৬ হাজার ৮২৯। করোনায় মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩১।

ভারতে টানা ২৫ দিন ধরে দৈনিক ৩ শতাংশের নিচে করোনা শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।

ভারতে করোনা থেকে রোগীদের সেরে ওঠার হারও বাড়ছে। এই হার এখন ৯৭ দশমিক ২৮।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে আবার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত মার্চের মাঝামাঝিতে ভারতে এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। তারপর দেশটিতে সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ে। গত ৭ মে ভারতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্তের তথ্য জানানো হয়।

গত ৪ এপ্রিল ভারতে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই কোটির মাইলফলক ছাড়ায়। ২৩ জুন ছাড়ায় তিন কোটির মাইলফলক। গত ২৩ মে করোনায় মৃত্যু তিন লাখের মাইলফলক ছাড়ায়। আর ২ জুলাই মৃত্যু চার লাখের মাইলফলক ছাড়ায়।

বিশ্বের কোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড ভারতের দখলে। গত ২২ এপ্রিলের আগপর্যন্ত এ রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল।

ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারত। ভারতের পর ব্রাজিল। আর মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবার ওপরে। ব্রাজিল দ্বিতীয়। ভারত তৃতীয়।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন