বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কৃষি আইন প্রত্যাহার করে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু কৃষকনেতারা রাজি নন। প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়ে তাঁরা তাঁদের পুরোনো ও নতুন দাবিগুলো জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, শুধু আইন প্রত্যাহারই তাঁদের দাবি ছিল না। তাঁরা এমএসপির আইনি রক্ষাকবচের দাবিও শুরু থেকে করে আসছেন। সেই সঙ্গে তাঁরা বলেছেন, নতুন বিদ্যুৎ আইন বাতিল করতে হবে। খেতে ফসলের গোড়া জ্বালানোর জন্য কৃষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আনা চলবে না। আন্দোলনের জন্য যাঁদের ধরা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দিতে হবে ও যাবতীয় মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলন করতে গিয়ে নিহত কৃষকদের পরিবারদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং লখিমপুর খেরির গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করতে হবে।

এই দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এমএসপি আইন। সূত্র অনুযায়ী, সরকার এই নিয়েই বিরোধীদের মতামত জানতে আগ্রহী। কৃষকদের দাবি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী এক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কৃষকনেতাদের বলেছিলেন, তাঁরা কমিটির সঙ্গে আলোচনায় বসুন। এর পাল্টা কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত বলেছেন, কোনো কমিটিরই প্রয়োজন নেই। সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই হবে না। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে টিকায়েত বলেছেন, এমএসপির আইনি বৈধতা দাবি করে ২০১১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন, সেই রিপোর্ট বলবৎ করলেই সমস্যা মিটে যায়। টিকায়েতের কথায়, প্রধানমন্ত্রীর অফিসেই সেই রিপোর্ট রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলবৎ করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মোদির সুপারিশ। ২০১১ সালে যে কমিটি এমএসপি-সংক্রান্ত ওই রিপোর্ট তৈরি করেছিল, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছিলেন সেই কমিটির প্রধান।
সরকারি সূত্রের খবর, তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। আলাদাভাবে তিনটি আইন খারিজের জন্য তিনটি পৃথক বিল না এনে একটি বিলেই তা করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এনডিটিভি এই খবর দিয়ে বলেছে, এমএসপি নিয়ে কী করা যেতে পারে, কৃষি মন্ত্রণালয়ে সেই ভাবনা প্রাধান্য পাচ্ছে।

কৃষক আন্দোলনের অবসানে সুপ্রিম কোর্ট তিন বিশেষজ্ঞের এক কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন। সেই রিপোর্ট সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত তিন আইন স্থগিত রাখার প্রস্তাবও সরকারকে দিয়েছিলেন। জানুয়ারি মাসে গঠিত সেই কমিটির সদস্যরা মার্চ মাসে তাঁদের রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে পেশ করেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা প্রকাশিত হয়নি। তিন বিশেষজ্ঞের অন্যতম মহারাষ্ট্রের শ্বেতকারি সংগঠনের নেতা অনিল ঘানোয়াত মঙ্গলবার রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই বিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানাকে চিঠি দিয়েছেন। তাতে লিখেছেন, আইন প্রত্যাহারের পর ওই রিপোর্ট আর প্রাসঙ্গিক নয়। তাঁদের সুপারিশগুলো তাই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। তা পড়লে দেশের কৃষির সার্বিক ছবি সবার কাছে স্পষ্ট হবে।

ঘানোয়াত এমএসপি-সংক্রান্ত আইনের বিরোধিতা করছেন। তাঁর মতে, কোনো সরকারই কৃষকদের দাবি অনুযায়ী আইন করে এমএসপির অধিকার দিতে পারবে না। তা করলে সরকার দেউলিয়া হয়ে যাবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন