বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরকারি পরিষেবা মানুষের দরজায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য মমতার জনপ্রিয় কর্মসূচির নাম ‘দুয়ারে সরকার’। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবার টিকাদানের ঘাটতি মিটিয়ে তা সর্বজনীন করে তুলতে ‘দুয়ারে টিকা’ কর্মসূচির ডাক দিলেন। লক্ষ্য, ১০০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা।

ইতালি ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী মোদি বুধবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ৪০টির বেশি জেলার শাসকদের সঙ্গে এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে মিলিত হন। তিনি সেই সব জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলেন, যেখানে টিকাদানের হার ৫০ শতাংশের কম হয়েছে। ঝাড়খন্ড, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মহারাষ্ট্রের মতো কিছু রাজ্যের ওই সব জেলা শাসকদের তিনি বলেন, ১০০ শতাংশ টিকার জন্য নতুন নতুন ভাবনার উদ্ভাবন করতে হবে। সেই সব ভাবনা কেমন হবে, তা অবস্থা ও পরিস্থিতির বিচারে ঠিক করতে হবে জেলা শাসকদেরই। যে এলাকায় যেমন প্রয়োজন, তেমন কৌশলই খাটাতে হবে। সেই কৌশল একটা গ্রাম বা নগর বা জেলার জন্য আলাদা হতে পারে। সে জন্য এলাকাভিত্তিক ২০-২৫ জনের দল গড়া যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত দিন মানুষজন এসেছেন টিকাকেন্দ্রে টিকা নিতে। এবার টিকা যাবে মানুষের দরজায় দরজায়। নতুন স্লোগানও তিনি বেঁধে দিয়েছেন, ‘হর ঘর টিকা, ঘর ঘর টিকা’।

ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো এ বৈঠকের খবর দিয়ে জানায়, জেলা শাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংক্রমণ কমার সঙ্গে সঙ্গে টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহও স্বাভাবিক কারণে কমে যায়। এ প্রবণতা মারাত্মক। বহু দেশে এ প্রবণতা বিপদ ডেকে এনেছে। প্রশাসনকে তাই প্রতিটি দরজায় টোকা (হর ঘর দস্তক) দিতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দিতে হবে। প্রথম ডোজই নয়, দ্বিতীয় টিকাও দিতে হবে এভাবে। জেলার টিকাদানের হার জাতীয় গড়ে নিয়ে যেতে হবে।

সাম্প্রতিক সফরে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাটিকানে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর সঙ্গে কোভিডসংক্রান্ত আলোচনা হয়। বুধবারের বৈঠকে সেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো কোনো মানুষের মধ্যে ধর্মীয় আড়ষ্টতাও কাজ করে। কুসংস্কার টিকা গ্রহণে বাধা দেয়। এ বাধা দূর করতে ধর্মীয় নেতাদের সহায়তা দরকার। যেখানে যেমন তেমন ব্যবস্থা জেলা শাসকদেরই করতে হবে। কোনো ঋজু বিধিনিষেধের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভারতে কোভিডের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। দৈনিক সংক্রমণ ১০-১২ হাজারের মধ্যে রয়েছে। তবে ক্রমেই বেড়ে চলেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ খবর জানিয়ে বুধবার এক বিবৃতিতে বলে, ডেঙ্গুর মোকাবিলায় কেন্দ্র দেশের ৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দল পাঠিয়েছে। ওই রাজ্যগুলো হলো হরিয়ানা, পাঞ্জাব, কেরালা, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড, দিল্লি ও জম্মু-কাশ্মীর। দেশে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। কিছুদিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন