default-image

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মাদ্রাজ হাইকোর্ট আজ সোমবার করোনা সংক্রমণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে কমিশনকে কড়া ভর্ৎসনা করেছেন। বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য একমাত্র দায়ী ভারতের নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগে নির্বাচন কমিশন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভারতজুড়ে করেনার এই সংক্রমণ।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ কথা বলেছেন। এই বেঞ্চের অন্য সদস্য হলেন বিচারপতি সেন্থিল কুমার রামমূর্তি।

ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, ‘দেশের এই করোনা পরিস্থিতির জন্য শুধু নির্বাচন কমিশন দায়ী। করোনা–সংক্রান্ত বিধি উড়িয়ে যখন প্রচার করছিলেন রাজনৈতিক নেতারা, তখন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি নির্বাচন কমিশন। তখন কি নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা অন্যগ্রহী ছিলেন? ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা হওয়া উচিত।’

আদালত নির্দেশ দেন, কীভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের কথা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। না হলে ২ মে ভোট গণনা বাতিলের কথা ভাববেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট। কারণ, সবার আগে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য। তাই সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগ নিতে হবে।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। এখন তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।  

বিজ্ঞাপন

যদিও এবার পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচটি রাজ্য আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই ৫ রাজ্যের মধ্যে আসামের ১২৬টি আসনের নির্বাচন ৩ দফায় ৬ এপ্রিল শেষ হয়। এক দফায় কেরালার ১৪০টি আসনের, তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের আর পদুচেরির ৩০ আসনের নির্বাচনও শেষ হয় একই দিন।

আর পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ আসনের নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয় ৮ দফায়। শুরু হয় ২৭ মার্চ। ইতিমধ্যে ৬ দফার নির্বাচন হয়েছে। আজ ২৬ এপ্রিল চলছে সপ্তম দফার নির্বাচন। আর শেষ দফার নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী ২৯ এপ্রিল। এই ৫ রাজ্যের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আগামী ২ মে একযোগে একই দিন এই ৫ রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে।

নির্বাচন কমিশনকে মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই ভর্ৎসনার পর কলকাতার তৃণমূলের মুখপাত্র ও সাংসদ সৌগত রায় বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকে তৃণমূলের তরফে বারবার বলা হয়েছিল, একাধিক জায়গায় করোনার সামাজিক দূরত্ববিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। চার দফার ভোট এক দফার করারও আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদনে আমল দেয়নি নির্বাচন কমিশন। তারই ফল আজ ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন