default-image

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফের বিপর্যস্ত ভারত। গত এক দিনে দেশটিতে ১ হাজার ৭৬১ জন মারা গেছেন। ভারতে এখন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৫০ জন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ছাড়িয়েছে। রাজধানী দিল্লিতেও এক দিনে রেকর্ড মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রাজ্যটিতে মারা যান ২৪০ জন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গতকাল সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেন ভারতে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যায় ভারত এখন দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। করোনা মহামারির শুরু থেকে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের পরই ব্রাজিলের অবস্থান।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সংক্রমণ রোধে গতকাল সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, আগামী ১ মে থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সব লোককেই টিকা দেওয়া শুরু হবে। যদিও সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকা দিতে গেলে লাগবে বাড়তি ডোজের সরবরাহ। কিন্তু অনেক রাজ্যে টিকা সরবরাহের ঘাটতি দেখা গেছে। ফলে বাড়তি ডোজ কোথা থেকে আসবে, সেটি এখনো অস্পষ্ট।

বর্তমানে স্বাস্থ্যকর্মী, সম্মুখসারির অন্যান্য কর্মী এবং ৪৫ বছরের বেশি বয়সী লোকদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক রাজ্যে টিকা সরবরাহের ঘাটতি দেখা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্রও। রাজ্যটিতে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সেখানকার হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহেরও ব্যবস্থা নেই। রাজ্যটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রায় ৫৯ হাজার লোক আক্রান্ত হয়েছেন, মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ। মহারাষ্ট্রে গতকাল মারা যান ৩৫১ জন, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ হাজার ৮২৪ জন।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লিতে গতকাল সোমবার রাত ১০টা থেকে ছয় দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী শহরটিতে ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লিতে এক দিনে এখন পর্যন্ত এটাই রেকর্ড মৃত্যু। গতকাল নতুন করে ২৩ হাজার ৬৮৬ জন লোক আক্রান্ত হয়েছেন রাজ্যটিতে।

কেরালাতে আজ থেকে দুই সপ্তাহের জন্য সন্ধ্যাকালীন কারফিউ জারি হচ্ছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ভারতে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়েছিল রাজ্যটিতে। বিহার, রাজস্থান, তামিলনাড়ু ও মনিপুরে নতুন করে বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। শপিং মল, স্কুল, সিনেমা হল ও ধর্মীয় উপাসনা কেন্দ্রগুলো বিহারে ১৫ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন