ভারতে করোনা শনাক্ত-মৃত্যু বাড়ল

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার ২ দশিমক ২৯ শতাংশ
ছবি: এএফপি

ভারতে আগের দিনের চেয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ও মৃত্যু বেড়েছে। আজ বুধবার এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হাজার ৭৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন শনাক্ত হয়েছিল ৩৪ হাজার ৭০৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় মারা গেছেন ৯৩০ জন। আগের দিন মারা যান ৫৫৩ জন।

সবশেষ তথ্য নিয়ে ভারতে করোনায় সংক্রমিত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৫। করোনায় মারা যাওয়া মানুষের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪ হাজার ২১১।

ভারতে টানা ৩০ দিন ধরে ৫ শতাংশের নিচে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। তার মধ্যে টানা ১৬ দিন ধরে শনাক্ত হচ্ছে ৩ শতাংশের নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের দিন ছিল তা ছিল ২ দশমিক ১১ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।

ভারতে করোনা থেকে রোগীদের সেরে ওঠার হার বাড়ছে। এই হার বেড়ে এখন ৯৭ দশমিক ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ভারতে ৩৬ কোটির বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অনেকটা স্তিমিত হয়ে এলেও দেশটিতে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতে সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউ ভয়াবহ করে তুলতে পারে করোনার নতুন রূপ ‘ডেলটা প্লাস’।

গত মার্চের মাঝামাঝিতে ভারতে এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। তারপর দেশটিতে সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ে। গত ৭ মে ভারতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্তের তথ্য জানানো হয়।

গত ৪ এপ্রিল ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই কোটির মাইলফলক ছাড়ায়। ২৩ জুন ছাড়ায় তিন কোটির মাইলফলক। গত ২৩ মে করোনায় মৃত্যু তিন লাখের মাইলফলক ছাড়ায়। আর ২ জুলাই মৃত্যু চার লাখের মাইলফলক ছাড়ায়।

বিশ্বের কোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড ভারতের দখলে। গত ২২ এপ্রিলের আগপর্যন্ত এ রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল।

ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারত। ভারতের পর ব্রাজিল। আর মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবার ওপরে। ব্রাজিল দ্বিতীয়। ভারত তৃতীয়।