default-image

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় টানা ছয় দিনের মতো আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ পার করেছে। টানা সাত দিনের মতো মৃত মানুষের সংখ্যা পার করেছে দুই হাজার। মহামারির শুরু থেকে এ বছরের এপ্রিল হচ্ছে সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। এর মধ্যে গোটা মাসের অর্ধেক মানুষ মারা গেছেন গত সাত দিনেই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, টেস্টের সংখ্যা কম হলেও গতকাল সোমবার ভারতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২ হাজার। একই সময়ে মারা গেছেন ২ হাজার ৭৬৬ জন।

মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন ভারতে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ মাসে ৩৪ হাজার ৫৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু গত সাত দিনেই মারা গেছেন ১৭ হাজার ৩৩৩ জন। এর আগে সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী মাস ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর। সেই মাসে মারা গিয়েছিলেন ৩৩ হাজার ২৩০ জন। তার আগের মাস আগস্টে মারা যান ২৮ হাজার ৯৫৪ জন।

বিশ্বে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যায় এখন ভারত। এর আগে ব্রাজিলে এক মাসে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। চলতি বছরের মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাসে মৃত্যুর সংখ্যা ছয় গুণ বেড়ে গেছে, গত মাসে মারা গিয়েছিলেন ৫ হাজার ৬৫৬ জন।

বিজ্ঞাপন

করোনার সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করা দেশটি তার স্বাস্থ্যখাতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অক্সিজেন, ওষুধ, হাসপাতালে শয্যার সংকটসহ নানা সমস্যায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম।

ভারতের হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ বেড়েই চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশির ভাগ হাসপাতালে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। হাসপাতালগুলো অক্সিজেন চেয়ে জরুরি বার্তা পাঠাচ্ছে।

ভারতে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রে। তারপর রয়েছে কেরালা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গ। ছত্তিশগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও হরিয়ানার পরিস্থিতিও অবনতিশীল।

করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির মুখে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাত্রিকালীন কারফিউসহ বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ভারতে গত ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখনো পিক বা চূড়ায় উঠেনি। ফলে দেশটিতে করোনার সংক্রমণ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনার এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কবে নাগাদ নিম্নমুখী হতে পারে, সে সম্পর্কে দেশটির বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন