হায়দরাবাদের একটি হাসপাতালে এক চিকিৎসককে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
হায়দরাবাদের একটি হাসপাতালে এক চিকিৎসককে টিকা দেওয়া হচ্ছে। ছবি: এএফপি

এক স্যানিটেশন কর্মীকে প্রথমে করোনাভাইরাসের টিকা দিয়ে ভারতে আজ শনিবার শুরু হলো টিকাদান কর্মসূচি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। ১৩০ কোটিরও বেশি মানুষকে টিকাদানের পরিকল্পনা করেছেন মোদি। তিনি টিকা নিয়ে গুজব ও প্রচারণায় কান না দিতে পরামর্শ দিলেন।

বিবিসির খবরে জানা যায়, সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করছি আমরা। এটি বিশ্বকে আমাদের শক্তি প্রদর্শন করে। কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন টিকার কয়েক লাখ ডোজের চালান পৌঁছে গেছে ভারতে।’

‘আজ বিশেষ দিন। যাঁরা কঠোর পরিশ্রম করে টিকাদান কর্মসূচির বাস্তবায়ন করেছেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালের চিকিৎসক পিটার

টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে মোদি সম্মুখসারির যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ভারতের অবস্থান।
মোদি বলেন, অ্যাপের সাহায্যে জনগণকে টিকা দেওয়ার ভালো প্রস্তুতি রয়েছে ভারতের। সরকার এই অ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারবে টিকাদান কর্মসূচি থেকে কেউ বাদ পড়ল কি না। বক্তব্যে চিকিৎসক, নার্স ও সম্মুখসারির যোদ্ধারা অন্ধকারে আলো দেখিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘তাঁরা পরিবার থেকে দূরে থেকে মানুষের সেবা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক শ ঘরে ফেরেননি। অন্যের জন্য তাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। এ কারণে প্রথম ধাপে স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এটি তাঁদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার নিদর্শন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

মোদি জনগণকে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সব জনগণকে টিকা দিতে আরও সময় লাগবে। তাই সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। মোদি টিকা নিয়ে প্রচারণা ও গুজবে বিশ্বাস না করতে ভারতের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। মোদি আরও বলেন, বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ, সেনা, মিউনিসিপ্যাল, অন্যান্য সম্মুখসারির কর্মীসহ এক কোটি স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রথম দফায় টিকা দেওয়া হবে। পরের ধাপে ৫০ বছরের বেশি অথবা ৫০ বছরের নিচের অসুস্থ ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হবে। ভারতের ৯০ কোটি ভোটারের নির্বাচনী তথ্য টিকাদান কর্মসূচিতে সাহায্য করবে।

আগস্ট মাসের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ভারত সরকার। দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল, কলেজ, কমিউনিটি হল, মিউনিসিপ্যাল কার্যালয় ও বিয়ের হলগুলোয় টিকাদান কর্মসূচি চলছে।

টিকাদান উপলক্ষে বিভিন্ন হাসপাতাল পোস্টার ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। নামের আদ্যক্ষর অনুসারে স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া হবে।

দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালের চিকিৎসক পিটার টিকা নেওয়ার পরে বলেন, ‘আজ বিশেষ দিন। যাঁরা কঠোর পরিশ্রম করে টিকাদান কর্মসূচির বাস্তবায়ন করেছেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড ও স্থানীয় ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার অনুমোদন দিয়েছে।টিকার দুটি ডোজ নিতে হবে সবাইকে। প্রথম পর্যায়ে টিকা নেবেন—এমন ৮০ লাখ মানুষকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। ৬ লাখের বেশি মানুষকে টিকার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
দুটি ডোজ নেওয়ার পরে টিকাদানের সনদ দেওয়া হবে।

ভারতের অন্যতম টিকা বিশেষজ্ঞ গগনদীপ কাং বিবিসিকে বলেন, ‘আমি আশা করি, অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভারতে টিকাদান কর্মসূচি ভালোভাবে চলছে।’ সরকারের বিনিয়োগ ও পূর্বপ্রস্তুতির কারণে টিকাদান কর্মসূচি ভালো চলছে বলে তিনি জানান।

default-image


মোদি ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন নিয়ে গুজবে বিশ্বাস না করতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া দুটি টিকার নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট। আমাদের টিকা উৎপাদনকারীরা বিশ্বে আস্থাভাজন।’ মোদি আরও বলেন, বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় ভারতের টিকা সস্তা।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন