সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ অবশ্যই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এক বিরাট ধাক্কা। কারণ, সরকার চায় না প্রচলিত আইন এভাবে স্থগিত রাখা হোক।

মামলাকারীদের আইনজীবী কপিল সিব্বাল বুধবার বলেন, দেশের বিভিন্ন কারাগারে এই আইনে ১৩ হাজার মানুষ বন্দী রয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁদের জামিনে মুক্তি পাওয়া কঠিন। কারণ, তাঁদের প্রায় সবার বিরুদ্ধে অন্যান্য ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এক মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় নতুনভাবে গ্রেপ্তার করা হবে।

ব্রিটিশ আমলে তৈরি ১৬২ বছরের পুরোনো এই আইন খারিজের জন্য সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা করা হয়েছে। সেসব মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট এই আইন রাখা না-রাখা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত জানতে চেয়েছিলেন।

কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা গত শনিবার প্রবলভাবে এই আইনের পক্ষে সরকারি মনোভাবের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু দুই দিন পর, সোমবার, নতুন হলফনামা পেশ করে তিনি জানান, সরকার এই আইন পুনর্বিবেচনায় রাজি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মনোভাবের উল্লেখ করে হলফনামায় বলা হয়, স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষে তিনি যাবতীয় ঔপনিবেশিক বোঝা ঝেড়ে ফেলতে আগ্রহী। ওই মনোভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার এই আইন পুনর্বিবেচনা করে দেখতে রাজি।

রাতারাতি কেন্দ্রীয় মনোভাবের এই ১৮০ ডিগ্রি বদল দেখে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জানতে চান, আইন পুনর্বিবেচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার এই আইনের প্রয়োগ স্থগিত রাখতে আগ্রহী কি না।

অভিমত জানানোর জন্য সরকারকে মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। বুধবার তুষার মেহতা যা জানান, তাতে স্পষ্ট, সরকার আইন স্থগিত রাখার পক্ষে নয়।

সলিসিটার জেনারেল বলেন, রাজ্য সরকারকে কেন্দ্র বলতে পারে, পুলিশ সুপার বা তার চেয়ে উঁচু পদমর্যাদার আধিকারিকেরাই যেন দেশদ্রোহ মামলা দায়ের করেন। স্পষ্টতই বোঝা যায়, কেন্দ্র আইন স্থগিত রাখতে চায় না। কেন্দ্রীয় সরকারের এই মনোভাব অস্বীকার করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেন, পুনর্বিবেচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আইন স্থগিত থাকবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ সরকার যে ভালো মনে নেয়নি, তা বোঝা যায় আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজুর মন্তব্যে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কী চায়, তা স্পষ্ট বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাবের কথাও। আদালতের স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাসী। আদালতের যেমন উচিত সরকার ও আইনসভাকে শ্রদ্ধা করা, তেমনই সরকারেরও উচিত আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। প্রত্যেকের এখতিয়ারের পরিধি স্পষ্ট। সেই লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করা উচিত নয়।’

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ ভুল কি না, সে বিষয়ে অবশ্য কিছু বলতে তিনি অস্বীকার করেন।

মন্তব্য করুন