default-image

ভারতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদর পুনেওয়ালাকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। দেশজুড়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাবেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে। এর আওতায় আদর পুনেওয়ালার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে এক বা দুজন থাকবেন কমান্ডো। বাকিরা থাকবেন পুলিশ সদস্য। তিনি দেশের যে প্রান্তেই ভ্রমণ করেন না কেন, তাঁকে এই নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আগামী ১ মে থেকে ভারতে তৃতীয় দফা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। তার আগে দেশটির বৃহত্তম টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নিরাপত্তায় এই সিদ্ধান্ত এল।

ভারতে টিকা কর্মসূচি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যে দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করতে হচ্ছে, তার একটি পুনেভিত্তিক সেরাম ইনস্টিটিউট। তাদের উৎপাদিত কোভিশিল্ড টিকার পাশাপাশি ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে দেশটির নাগরিকদের।

সম্প্রতি এই দুই প্রতিষ্ঠান ভারতের রাজ্যগুলোর জন্য এবং বেসরকারি পর্যায়ে টিকা বিক্রির জন্য দাম ঘোষণা করে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে যেখানে প্রতি ডোজ ১৫০ রুপিতে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে রাজ্যগুলোর জন্য ৪০০ রুপি দাম নির্ধারণ করে সেরাম ইনস্টিটিউট। এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ‘এক টিকা এক দাম’ দাবি ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে।

সমালোচনার মুখে সেরাম ইনস্টিটিউট বুধবার রাজ্যগুলোর জন্য প্রতি ডোজ টিকার দাম কমিয়ে ৪০০ থেকে ৩০০ রুপিতে নামিয়ে এনেছে।

টিকার দাম নিয়ে আদর পুনেওয়ালা বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে কম মূল্যে টিকা সরবরাহ করছেন। এই দাম ‘সীমিত’ সময়ের জন্য।

এনডিটিভিকে আদর পুনেওয়ালা বলেন, ‘প্রতি ডোজ টিকার গড় মূল্য প্রায় ২০ ডলার (দেড় হাজার রুপি)। কিন্তু মোদি সরকারের অনুরোধে আমরা ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করছি। এর অর্থ এই নয় যে আমরা মুনাফা করছি না। তবে আমরা খুব বেশি মুনাফা করছি না, যেটা পুনরায় বিনিয়োগ করার জন্য জরুরি।’

এই সেরাম ইনস্টিটিউট থেকেই বাংলাদেশের জন্য করোনাভাইরাসের তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি হয়েছিল। গত নভেম্বরে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও বেক্সিমকোর ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সেরাম থেকে টিকা এনে বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বেক্সিমকোর। প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে ছয় মাসে এ টিকা আসার কথা ছিল।

বেক্সিমকো জানুয়ারি মাসে প্রথম চালানে ৫০ লাখ টিকা সরবরাহ করেছিল। পরের মাসে তারা সরবরাহ করে ২০ লাখ ডোজ টিকা। এর বাইরে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। তবে চুক্তির বাকি টিকা কবে আসবে, তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন