default-image

করোনার প্রকোপের আগে থেকেই ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল খারাপ। টানা কয়েক প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। স্বাভাবিকভাবেই করোনার প্রকোপে সেই পরিস্থিতিরি আরও অবনতি হবে, প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানে—এমন আশঙ্কা সবাই করছিলেন।

সেই আশঙ্কা সত্যি করে ভারতের অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএমআইই জানাল, ৩ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতে বেকারত্বের হার ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে যা ছিল ২১ দশমিক ০৫ শতাংশ। লকডাউন শুরুর পরে এটা সর্বোচ্চ। এপ্রিলে বেকারত্বের হার ছিল ২৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি তো বটেই, মার্চেরও প্রায় তিন গুণ এই পরিসংখ্যান।

সিএমআইইয়ের তথ্যানুসারে, এপ্রিল মাসে ভারতে ৯ কোটি ৩০ লাখ দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসার কর্মী, বিভিন্ন উদ্যোগের আরও ১ কোটি ৮২ লাখ কর্মী ও বেতনভুক্ত কর্মীদের ১ কোটি ৭৮ লাখ কাজ হারিয়েছেন।

মহামন্দার সময়ে ১৯৩৩ সাল নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি চারজনে একজন কর্মহীন ছিলেন সেখানে। সিএমআইইর তথ্য বলছে, ভারতের এই চিত্র মহামন্দাত্তোর মার্কিন মুলুকের মতোই।

যে দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে, সেখানে দেড় মাস আর্থিক কর্মকাণ্ড কার্যত বন্ধ থাকলে কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা বাড়াই স্বাভাবিক। লকডাউনে যেভাবে কাজ হারিয়ে অভিবাসী শ্রমিকেরা পথে নেমেছিলেন, তাতে পরিস্থিতি যে বেহাল হতে যাচ্ছে, তা আঁচ করা যাচ্ছিল। সেই সঙ্গে কাজ হারিয়েছেন ঠিকা কর্মীরা। তবু এই পরিসংখ্যানে আশঙ্কা বৃদ্ধির বেশ কিছু কারণ আছে বলে মনে করেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

প্রথমত, ২৬ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকারত্বের হার আগের সপ্তাহের (২৬ দশমিক ১৯ শতাংশ) থেকে কমে হয়েছিল ২১ দশমিক ০৫ শতাংশ। ২০ এপ্রিলের পর থেকে ‘করোনামুক্ত’ অঞ্চলে ধাপে ধাপে আর্থিক কর্মকাণ্ড চালুর লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষজ্ঞেরা তখনই বলেছিলেন, (২২ মার্চ-১৯ এপ্রিল) প্রায় সব কারখানা বন্ধ থাকায় যাঁরা কাজ নেই বলছিলেন, এবার তা খোলার আশায় কাজ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে। এঁদের অনেকেই তাই নিজেকে কর্মহীন ভাবছেন না। কিন্তু সেই কাজ তাঁরা ফিরে না পেলে পরিসংখ্যান আবার খারাপ হতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অধিকাংশই কাজ ফিরে পাননি, নাকি কারখানাই খোলেনি? ফসল কাটার মতো কাজই বা দেওয়া গেল কতটুকু?

দ্বিতীয়ত, ২২ মার্চ শেষ হওয়া সপ্তাহে কর্মক্ষমদের মধ্যে কাজ করছিলেন বা খুঁজছিলেন ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২৬ এপ্রিল সপ্তাহে তা হয় ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ছিল, লকডাউনে কাজ খোঁজা থেকে অনেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ায় ওই সময়ে বেকারত্ব কমেছিল। ৩ মে সপ্তাহে সেই সংখ্যা (কর্মী ও কাজের খোঁজ মিলিয়ে ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ) বাড়তেই বেকারত্বের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

তৃতীয়ত, লকডাউনের আগে ভারতে বেকারত্ব ছিল ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। দেড় মাসে তা পৌঁছেছে ২৭ দশমিক ১১ শতাংশে। অনেকের আশঙ্কা, কাজ হারানোর মূল ধাক্কা টের পাওয়া যাবে কারখানা খুললে। তখন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের পাশাপাশি ছাঁটাই হতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও।

সিএমআইইর তথ্যানুসারে বড় রাজ্যগুলোর মধ্যে তামিলনাড়ু, ঝাড়খন্ড ও বিহারে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি, যথাক্রমে ৪৯ দশমিক ৮, ৪৭ দশমিক ১ ও ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম হচ্ছে পাঞ্জাব, ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানায়, যথাক্রমে ২ দশমিক ৯, ৩ দশমিক ৪ ও ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0