default-image

সংক্রমণ রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করেছে ভারত। টিকা প্রদানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তৈরি করোনার টিকা স্পুতনিক–ভি–এর জরুরি ব্যবহারে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর এএফপির।

আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারতীয়দের ওপর রাশিয়ার তৈরি স্পুতনিক–ভি টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল বিশেষজ্ঞ দল। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে এ টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে ভারতে করোনার তিনটি টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেল। এর আগে ভারতে অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকা ‘কোভিশিল্ড’ ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছিল। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট এ টিকা উৎপাদন করছে। দেশটিতে আগেই অনুমোদন পেয়েছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেকের উদ্ভাবিত করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সেন্টাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের (সিডিএসসিও) বিশেষজ্ঞ দল ভারতে স্পুতনিক–ভি ব্যবহারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।
মস্কোর গামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্পুতনিক–ভি টিকাটি উদ্ভাবন করেছে। প্রাথমিক ট্রায়ালের পর বলা হয়েছিল, এটি কোভিড–১৯ প্রতিরোধে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি দেশ করোনা প্রতিরোধে রাশিয়ার টিকা স্পুতনিক–ভি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

ভারতে টিকাটির উৎপাদন ও বাজারজাতে যুক্ত থাকবে ডা. রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি ভারতে স্পুতনিক–ভি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। স্থানীয়ভাবে ৮৫ কোটির বেশি ডোজ টিকা উৎপাদনে ছয়টি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) সঙ্গে চুক্তি সই করেছে।

ভারতে স্পুতনিক–ভি টিকা ব্যবহারে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় আরডিআরএফ প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভ এক বিবৃতিতে বলেন, এটা স্পুতনিক–ভি টিকার অগ্রযাত্রায় একটি বড় মাইলফলক।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেও স্পুতনিক–ভি টিকা পেতে অনেক সময় লাগতে পারে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির বর্তমান রেকর্ড ঠেকাতে কাজে না–ও লাগতে পারে। এ বিষয়ে ভারতীয় ভাইরোলজিস্ট শহীদ জামেল এএফপিকে বলেন, স্পুতনিক–ভি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন ভারতে করোনার টিকার সরবরাহ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এটা সুখবর। তবে সাম্প্রতিক সংক্রমণে এটার ভূমিকা হবে নগণ্য।

রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজের কো–চেয়ার জি ভি প্রসাদ বলেন, ‘রাশিয়ার তৈরি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ায় আমি খুশি। ভারতের সাম্প্রতিক সংক্রমণ পরিস্থিতির লাগাম টানতে টিকা কার্যকর উপায় হতে পারে।’

ভারতে এখন করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। সংক্রমণের দিক দিয়ে দেশটি ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরই এখন ভারতের অবস্থান। আজ দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে টানা সাত দিন দৈনিক শনাক্তের হার ১ লাখের ওপরে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন