ব্রিটিশ সরকারের তৈরি রাষ্ট্রদ্রোহ আইন ভারতে আজও চালু রয়েছে। ১৬২ বছরের পুরোনো এই আইনের অপব্যবহারও হচ্ছে প্রায়ই। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় আটকের সংখ্যাও হু হু করে বেড়ে গেছে।
ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে মোট ৩৫৬টি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে। আটক হয়েছেন ৫৪৮ জন। কিন্তু মাত্র ৭টি মামলায় মোট ১২ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও কেন এই আইন চালু রয়েছে, কেন তা খারিজ করা হবে না, সুপ্রিম কোর্ট নিজেই সেই প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধান বিচারপতি এন ভি রমণ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, যে আইনে মহাত্মা গান্ধী ও বালগঙ্গাধর তিলকের মতো স্বাধীনতাসংগ্রামীদের জেলবন্দী করা হয়েছিল, সেই আইন চালু রাখার যৌক্তিকতা কোথায়? এই আইন খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে। তারই শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকার নিজের অবস্থান ১৮০ ডিগ্রি বদলে ওই আইন পুনর্বিবেচনায় রাজি হয়েছে।

গত শনিবার আইনটি জারি রাখার পক্ষে জোরালো সওয়ালের পর গত সোমবার সরকারের পক্ষে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেই সঙ্গে কেন্দ্রের আরজি, তত দিন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট যেন মামলার শুনানি বন্ধ রাখেন।

শুনানি বন্ধ রাখার সেই আরজি সুপ্রিম কোর্ট মেনে নেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এন ভি রমণ, বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি হিমা কোহলি প্রত্যেকেই জানতে চান, পুনর্বিবেচনা চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই আইনের প্রয়োগ স্থগিত রাখার বিষয়ে কেন্দ্র কোনো নির্দেশ জারি করবে কি না। বিচারপতিরা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কত সময় নেবে, জানা নেই। বিবেচনা চলাকালে এই আইনের ব্যবহার ও অপব্যবহার দুই-ই হতে পারে। ধরপাকড়ও হতে পারে। কেন্দ্রকে তাই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে, তারা আইন স্থগিত রাখার বিষয়ে নির্দেশ জারি করবে কি না। সুপ্রিম কোর্ট এ কথাও জানতে চান, পুনর্বিবেচনা চলাকালে এই আইনের অধীনে বিচারাধীন মামলাগুলোর হাল কী হবে, সেটাও এক প্রশ্ন।

গত শনিবার রাষ্ট্রদ্রোহ আইন চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেন্দ্র জোরালো সওয়াল করেছিল। দুই দিনের মধ্যে মত বদলে সোমবার কেন্দ্র জানায়, আইনটি পুনর্বিচারে সরকার রাজি। নতুন হলফনামা পেশ করে বলা হয়, স্বাধীনতার ৭৫তম বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাবতীয় ঔপনিবেশিক বোঝা ঝেড়ে ফেলতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সেই মনোভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার দেশদ্রোহ আইন পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশদ্রোহ আইন খারিজ নিয়ে মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছেন এডিটরস গিল্ড এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কেন্দ্রের ভোল বদল প্রসঙ্গে সোমবার মহুয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এটা সরকারের এক নতুন কৌশল। পুনর্বিবেচনার নামে সরকার অনন্তকাল বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখতে চাইছে। সময় নষ্ট ছাড়া এই কৌশল অন্য কিছু নয়।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন