default-image

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দৈনিক সংক্রমণ কি এক লাখ পেরিয়ে যাবে? প্রশ্নটি উঠতে শুরু করেছে। কেননা, গত বৃহস্পতি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন সংক্রমিত রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৮১ হাজার পেরিয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন রাজ্য নানা ব্যবস্থা নিতে শুরু করলেও সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

এই অবস্থায় ভারত বায়োটেক তাদের তৈরি করোনার প্রতিষেধক ‘কোভ্যাক্সিন’–এর বুস্টার ডোজের পরীক্ষার অনুমতি পেয়েছে। সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে বুস্টার ডোজ প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে হায়দরাবাদের এই সংস্থাকে।

ভারত বায়োটেক মনে করছে, তাদের তৈরি কোভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় ডোজের অন্তত ছয় মাস পর বুস্টার ডোজ নিলে বেশ কয়েক বছর সুরক্ষা পাওয়া যাবে। প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর অতিরিক্ত এই ডোজ এখন প্রয়োগ করা হবে সেই স্বেচ্ছাসেবকদের, যাঁরা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে কোভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানী নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এইমস) পরিচালক রণদীপ গুলেরিয়া বলেছেন, করোনার নতুন ধরনের জন্যই সংক্রমণ এত মারাত্মক হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেড়ে গেছে মৃত্যুহারও। এক মাস আগেও দেশের দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১০০ জনের কাছাকাছি। এখন দৈনিক ৪৫০ পেরিয়ে গেছে। এই অবস্থায় জোর দেওয়া হয়েছে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের টিকা প্রয়োগের ওপর।

রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, সরকারি নির্দেশ রয়েছে, সপ্তাহে সাত দিনই টিকা দিতে হবে। এমনকি ছুটির দিনেও। খোলা রাখতে হবে সরকারি–বেসরকারি সব কেন্দ্র। বাতিল করতে হবে সবার ছুটি। দেশে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া হয়েছে ৬ কোটি ৮৭ লাখের বেশি মানুষকে। গত ২৪ ঘণ্টায় টিকা পেয়েছেন প্রায় ৩৭ লাখ। ১০ দিনের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী দেড়–দুই মাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের মধ্যে বোঝা যাবে সংক্রমণ বাড়বে না কমবে। কমাতে হলে একমাত্র উপায়, যত বেশি সম্ভব মানুষকে টিকা দেওয়া। আশঙ্কা উড়িয়ে সরকার জানিয়েছে, দেশে টিকার অভাব নেই।

সংক্রমণের নিরিখে মহারাষ্ট্র এখনো সবার ওপরেই শুধু নয়, এই রাজ্যের হাল সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পুনেসহ একাধিক শহরে নৈশকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে শুক্রবার বলেছেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে রাজ্য লকডাউন করা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের কোন দিকে বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত, অর্থনীতি না স্বাস্থ্য? এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে আমাদের অবকাঠামো ভেঙে পড়বে। কাজেই আজ (শুক্রবার) আমি লকডাউনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলাম। আমি এখনই লকডাউনের ঘোষণা দিচ্ছি না। তবে আরও আলোচনা করে দুদিনের মধ্যে কোনো সমাধান যদি না পাই, তাহলে লকডাউন দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না আমার।’

মহারাষ্ট্রের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে দিল্লিসহ আরও ১০টি রাজ্যে। দিল্লিতে দৈনিক সংক্রমণ একটা সময় ৬০০ জনের কম হচ্ছিল। আজ সেখানে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার। তবে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল শুক্রবার বলেছেন, বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও আপাতত লকডাউনের পরিকল্পনা তাঁদের নেই।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন