স্কাই এয়ার মোবিলিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অঙ্কিত কুমার বলেন, এ পর্যন্ত পরিচালিত ফ্লাইটগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এভাবে প্রায় ৪৮ শতাংশ সময় বাঁচানো সম্ভব।

দিল্লি শহরতলির গুরগাঁওয়ে রক্তের নমুনা পরিবহনে একই ধরনের ট্রায়াল চালিয়েছে ড্রোন কোম্পানিটি। ভারতের সবচেয়ে বড় ডায়াগনস্টিক কোম্পানি এসআরএল ডায়াগনস্টিকসের জন্য এই নমুনা পরিবহন করা হয়। প্রথমে একজন ল্যাব বিশেষজ্ঞ নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর ড্রোনে থাকা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ক্যারিয়ারে সংগৃহীত নমুনা মোড়কজাত করে রাখা হয়। তখন বেসরকারি একটি হাসপাতাল থেকে ড্রোনটি ল্যাব সেন্টারে পৌঁছায়। সেখানে একজন ল্যাব বিশেষজ্ঞ সেটা গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে সড়কপথে যে সময় লাগত, তার এক-তৃতীয়াংশ কম সময় লেগেছে।

এসআরএল ডায়াগনস্টিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আনন্দ কে বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় কম সময়ে নমুনা প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হবে। রোগীরা উপকৃত হবেন।’

অবশ্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলতে চান না। তাঁদের মতে, স্বাস্থ্য খাতে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহার হতে পারে ট্রায়ালে এ ধরনের সাড়া জাগানো অভিজ্ঞতা হাতে গোনা কয়েকটি।
পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনের কেইএম হসপিটাল রিসার্চ সেন্টারের জনস্বাস্থ্য গবেষক বায়োটেকনোলজিস্ট রাতুজা পাতিল বলেন, ‘সব মিলিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, খরচ। এটি এখনো কার্যকর নয়, কারণ, এখনো এটি ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে। আরও অনেক কিছু করা বাকি।’

রাতুজা পাতিল গত বছর একটি গণস্বাস্থ্য প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন। ওই প্রকল্পে পশ্চিমাঞ্চলীয় মহারাষ্ট্র রাজ্যের গ্রামীণ অঞ্চলের কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ব্যাটারিচালিত ড্রোন ব্যবহার করে দরকারি চিকিৎসা উপকরণ পাঠানো হয়।

এ ব্যবস্থা সাশ্রয়ী করতে প্রযুক্তির আরও উন্নয়ন প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন ঠিক যা দেখিয়েছি, একটা যান, সফটওয়্যার ও অটোমেশন আছে এবং সেগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারে।’
রাতুজা পাতিল বলেন, ড্রোনে টিকা এবং ওষুধ পরিবহন ও বিতরণে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকতে হয়। এটি কোল্ড চেইন হিসেবে পরিচিত। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রারও প্রয়োজন হতে পারে, যা চ্যালেঞ্জিং।

ভারতে দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করা হয়। উত্তর প্রদেশ কুম্ভমেলা পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করেছিল। কুম্ভমেলাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ মনে করা হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে কোভিডের টিকা পরিবহনেও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল।

অবশ্য ড্রোনে পণ্য পরিবহন সব সময় এ রকম সহজ ছিল না। ড্রোন উড্ডয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক বিধিনিষেধ ছিল। পণ্য সরবরাহে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে অনেক কাগজপত্র চালাচালি করতে হতো এবং বিভিন্ন পর্যায়ে অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।

গত বছরের আগস্টে সরকার আইন ও নিয়মকানুন শিথিল করে। বাণিজ্যিক ড্রোন পরিচালনায় বিভিন্ন পর্যায়ে অনুমতি নেওয়া ও ফি প্রদানের যে প্রয়োজনীয়তা ছিল, তা ব্যাপকভাবে কমানো হয়। নতুন আইনে কাগজপত্র চালাচালি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। একটি ড্রোন ফ্লাইট পরিচালনায় যত ধরনের ফি দেওয়া লাগত, তা ৭২ থেকে কমিয়ে মাত্র ৪টি করা হয়েছে।

দেশের আকাশসীমা তিনটি অঞ্চলে ভাগ করে সরকার একটি মানচিত্রও উন্মুক্ত করেছে। গ্রিন, ইয়েলো ও রেড—এই তিন রঙে অঞ্চলগুলোকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো কোন অঞ্চলে ড্রোন ওড়াতে পারবে আর কোন অঞ্চলে পারবে না, তা এতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, গ্রিন জোনে ড্রোন ওড়াতে কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ড্রোন ওড়ানো যাবে। মাইক্রো ও ন্যানো ড্রোনের ক্ষেত্রে অনুমতির বিষয়টি তুলে নেওয়া হয়েছে। ন্যানো ড্রোনের ওজন সর্বোচ্চ ২৫০ গ্রাম। আর মাইক্রো ড্রোনের ওজন সর্বোচ্চ দুই কেজি।

ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী তিন বছরে ড্রোন পরিষেবা শিল্প ৩০০ বিলিয়ন রুপিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। এ খাতে ১০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।