ভারতে ৮৮ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম করোনা শনাক্ত

ভারতে টানা ১৪ দিন ধরে ৫ শতাংশের নিচে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে
ছবি: এএফপি

ভারতে ৮৮ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম করোনা শনাক্ত হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। আজ সোমবার এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ হাজার ২৫৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৪২২ জনের।

সবশেষ এ তথ্য নিয়ে ভারতে করোনায় সংক্রমিত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৩৫ হাজার ২২১। মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৩৫।

ভারতে টানা ১৪ দিন ধরে ৫ শতাংশের নিচে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।

ভারতে গত শনিবার ৫৮ হাজার ৪১৯ জন শনাক্ত হয়। মারা যান ১ হাজার ৫৭৬ জন। শুক্রবার ৬০ হাজার ৭৫৩ জন শনাক্ত হয়। মারা যান ১ হাজার ৬৪৭ জন। বৃহস্পতিবার ৬২ হাজার ৪৮০ জন শনাক্ত হয়। মারা যান ১ হাজার ৫৮৭ জন। বুধবার ৬৭ হাজার ২০৮ জন শনাক্ত হয়। মারা যান ২ হাজার ৩৩০ জন। মঙ্গলবার ৬২ হাজার ২২৪ জন শনাক্ত হয়। মারা যান ২ হাজার ৫৪২ জন। গত সোমবার শনাক্ত হয় ৬০ হাজার ৪৭১ জন। মারা যান ২ হাজার ৭২৬ জন।

ভারতে সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকলেও আগামী ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের (এইমস) প্রধান চিকিৎসক রণদীপ গুলেরিয়া। ভারতে করোনার নতুন ধরন ডেলটা প্লাসের কারণে এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন গুলেরিয়া।

গত মার্চের মাঝামাঝিতে ভারতে এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। এরপর দেশটিতে সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ে। গত ৭ মে ভারতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্তের তথ্য জানানো হয়।

গত ৪ এপ্রিল ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই কোটির মাইলফলক ছাড়ায়। গত ২৩ মে করোনায় মৃত্যু তিন লাখের মাইলফলক ছাড়ায়।

গত ৩০ এপ্রিল ভারতে প্রথম এক দিনে চার লাখের বেশি মানুষের করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর একাধিক দিন দেশটিতে চার লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়।

গত ৭ মে ভারতে প্রথম এক দিনে করোনায় চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর একাধিক দিন দেশটিতে চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ৯ জুন দেশটিতে রেকর্ড ছয় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বের কোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড ভারতের দখলে। গত ২২ এপ্রিলের আগপর্যন্ত এ রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গত জানুয়ারিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারত। ভারতের পর ব্রাজিল। আর মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পর রয়েছে ভারত। ভারতে সংক্রমণ ‘বিস্ফোরণের’ জন্য করোনার ভারতীয় ধরনকে (ডেলটা) অনেকাংশে দায়ী করা হয়।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানলে মাস কয়েক আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করে। এখন সংক্রমণ কমতে থাকায় বিভিন্ন রাজ্য সতর্কতার সঙ্গে বিধিনিষেধ শিথিল করছে। একই সঙ্গে করোনার সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউয়ের ব্যাপারেও রাজ্যগুলো প্রস্তুত হচ্ছে।