default-image

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় আর কোনো ঢিলেমি নয়। বছরভর ভারত–চীন সীমান্তে ভারতীয় বাহিনী সতর্ক থাকবে। প্রচণ্ড ঠান্ডায়ও। সম্প্রতি ভারতীয় সংসদীয় কমিটির সদস্যদের এই কথা জানিয়েছেন দেশের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) বিপিন রাওয়াত। তিনি বলেন, লাদাখে চীনা সেনাদের পিছু হটতে যতই সময় লাগুক, ভারতীয় বাহিনী সজাগ ও সতর্ক থাকবে। প্রয়োজনে বহুদিন থাকতে হলেও থাকবে। ভারতীয় বাহিনী সেই ব্যবস্থা করে ফেলছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই মঙ্গলবার এই খবর জানিয়েছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান যখন দেশের সুরক্ষায় এই আশ্বাস দিচ্ছেন, সেই সময় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান জানাচ্ছেন, ভারত–চীন বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় শান্তিরক্ষা ও পারস্পরিক বিশ্বাস দৃঢ় করাই চীনের প্রধান কূটনৈতিক লক্ষ্য। কোভিড–১৯ যখন সবার মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই সময় চীনা কূটনীতির অগ্রাধিকার হলো ভারতসহ জাপান, ইইউ, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন। তিনি বলেন, ভারত ও চীন দুই দেশেরই উচিত সীমান্তে শান্তি ও সুস্থিতি রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করা। পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা। গত সোমবার রাতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চীন তার প্রতিবেশীসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও আস্থা–ভরসা বৃদ্ধিতে কাজ চালিয়ে যাবে।

সংসদীয় কমিটির সদস্যরা লাদাখে সাম্প্রতিক ভারত–চীন সীমান্ত উত্তেজনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিডিএসকে প্রশ্ন করেন। ওই বিস্তীর্ণ এলাকায় গত এপ্রিল–মে মাস থেকে চীন পরিকল্পনা করে তাদের শক্তিবৃদ্ধি ঘটিয়ে গেছে। প্রায় ৪০ হাজার সৈন্য তারা ওই এলাকায় মোতায়েন করেছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশই এখন সেনা অপসারণের প্রক্রিয়া জারি রেখেছে। ভারতের দাবি মেনে চীন এখনো পিছু হটেনি। কত দিনে তারা সেনা সরাবে, তার কোনো ইঙ্গিত এখনো নেই। এই অবস্থায় ভারত কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। সিডিএস সেই কথাই সংসদীয় কমিটির সদস্যদের জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে যদি দীর্ঘ সময় থাকতে হয়, ভারতীয় বাহিনী তা–ই করবে। সে কারণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানো হচ্ছে। লাদাখ সেক্টরে ভারত ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত দুই ডিভিশন সেনা মোতায়েন করেছে।

ভারত–চীন সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ‘চায়না এরোস্পেস স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের (সিএএসআই)। তারা জানিয়েছে, লাদাখে ভারত–চীন সীমান্ত উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর থেকে চীন তাদের সব ধরনের উপস্থিতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে।

লাদাখ সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনের সিনকিয়াং অঞ্চলের হোটান বিমান ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে ৩৬টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ২৪টি রাশিয়ার তৈরি জে–১১ ফ্ল্যাঙ্কার ফাইটার যুদ্ধবিমান, ৬টি পুরানো জে–৮ ফাইটার,২টি ওয়াই ৮জি পরিবহন বিমান, ২টি কেজে–৫০০ আরলি ওয়ার্নিং বিমান, ২টি এমআই–১৭ হেলিকপ্টার ও একগাদা সিএইচ–৪ ড্রোন। জুন মাসের সংঘর্ষের আগে ওখানে মাত্র ১২টি ফ্ল্যাঙ্কার যুদ্ধবিমান ছিল।

ভারতও তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। প্রথম দফার রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। রাখা হয়েছে সুখোই–৩০, মিরাজ ও মিগ–২৯। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোও তৈরি করা হচ্ছে দ্রুত।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন