default-image

আগামী সপ্তাহে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে পাকিস্তানের। প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মীদের চীনের তৈরি টিকা বিনা মূল্যে দেবে দেশটি।  প্রতিবেশী ভারত করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে চলতি জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ টিকা উৎপাদনকারী এই দেশটি বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিনা মূল্যে টিকা দিচ্ছে। এ উদ্যোগকে ‘টিকা কূটনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। ভারতের এই ‘টিকা কূটনীতি’ থেকে এখন পর্যন্ত বাদ পড়েছে পাকিস্তান।

বিবিসির আজ শুক্রবারের খবরে জানা যায়, প্রয়োজন মেটাতে ভারত থেকে টিকা পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন করাচিভিত্তিক প্রভাবশালী টিকা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিন্ধু মেডিকেল স্টোরের কর্মকর্তা উসমান গনি।

উসমান গনি বলেন, পাকিস্তানে যত ধরনের টিকা ব্যবহার করা হয় তার প্রায় ৯০ শতাংশই ভারত থেকে আসে । তিনি বলেন, ভারতে উৎপাদিত টিকা বিশ্বমানের, সাশ্রয়ী ও পরিবহন করা সহজ।

উসমান গনি মনে করেন, পাকিস্তান অদূর ভবিষ্যতে ভারত থেকে করোনা টিকাও পাবে। ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্থানীয়ভাবে তৈরি কোভিশিল্ড (যুক্তরাজ্যে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা) ও ভারত বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের তৈরি কোভ্যাকসিন টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। গনি বলেন, ‘ভারত ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে টিকার অনেক অর্ডার পেয়েছে। ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা দেশটি থেকে টিকা আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কিন্তু এতে সময় লাগবে।’

বিজ্ঞাপন

উসমান গনি আরও বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ওষুধ খাতের বাণিজ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে পাকিস্তান ভারত থেকে ৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের ওষুধ আমদানি করেছে।

ভারতের কাছ থেকে টিকা নিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ পাওয়ার বিষয় অবগত নন বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। অনেকের ধারণা, ভারত পাকিস্তানকে টিকা দেবে কি না, সেটি সময়সাপেক্ষ প্রশ্ন। গনি বলেছেন, ‘টিকা নিয়ে সহযোগিতা না করলে আমরা আমাদেরই ক্ষতিগ্রস্ত করব।’

পাকিস্তান ২২ কোটি অধিবাসীর অন্তত ৭০ শতাংশকে বিনা মূল্যে করোনার টিকা দিতে চায়। দেশটির ওষুধ প্রশাসন যুক্তরাজ্যের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, চীনের সিনোফার্ম ও রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। চীনের উৎপাদিত আরেক টিকা ক্যানসিনো বায়োলজিক্সের চূড়ান্ত ট্রায়াল চলছে পাকিস্তানে। দেশটিতে করোনায় এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন ৫ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছেন ১১ হাজার ৫১৪ জন।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ওষুধ খাতের বাণিজ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে পাকিস্তান ভারত থেকে ৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের ওষুধ আমদানি করেছে।
উসমান গনি, করাচিভিত্তিক প্রভাবশালী টিকা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিন্ধু মেডিকেল স্টোরের কর্মকর্তা

টিকা তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা চীন পাকিস্তানকে ৫ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর প্রথম দফার চালান চলতি সপ্তাহের শেষে দেশটিতে এসে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উসমান গনি বলেছেন, ‘এই ৫ লাখ ডোজ কিছুই না। আমাদের আরও অনেক ডোজ টিকা দরকার।’

পাকিস্তান নিশ্চিতভাবে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে টিকা আনার চেষ্টা চালাবে। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি কোভ্যাক্সের আওতায়ও টিকা পাওয়ার চেষ্টা চালাবে তারা। ১৮০টির বেশি দেশে করোনার টিকার উন্নয়ন, ক্রয় ও সরবরাহ করা এই কর্মসূচির লক্ষ্য।

ভারত ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে টিকার অনেক অর্ডার পেয়েছে। ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা দেশটি থেকে টিকা আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কিন্তু এতে সময় লাগবে।
উসমান গনি

ইতিমধ্যে নয়াদিল্লি ‘টিকা কূটনীতি’কে জোরেশোরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে মনে করেন, আশপাশের অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের পাল্টা পদক্ষেপ ভারতের এই টিকা কূটনীতি। নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) গবেষক হর্ষ পান্ত ও আরশি তারকিও একই রকম মত প্রকাশ করেন।

তবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝিও লিজিয়ান এই ধারণা উড়িয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, টিকা নিয়ে ভারতের সঙ্গে তাঁর দেশের কোনো প্রতিযোগিতা নেই।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন