default-image

ভালোবাসা দিবসের প্রাক্কালে স্বামী অরুণ তালওয়ারের কাছ থেকে সবচেয়ে মূল্যবান উপহারটিই পেলেন স্ত্রী পূজা তালওয়ার। আর তাতে তৈরি হলো ভালোবাসার এক অনন্য নজির।
গতকাল শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, জীবনসঙ্গী পূজার জীবন রক্ষায় নিজের কিডনি বিনিময় করেছেন অরুণ। অরুণ-পূজা দম্পতি গাজিয়াবাদে থাকে। এক বছর ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন পূজা। সম্প্রতি নইদা হাসপাতালে তাঁর অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়।
অরুণের সঙ্গে পূজার রক্তের গ্রুপ মিলছিল না। কিন্তু প্রিয় স্ত্রীকে যেকোনো মূল্যে বাঁচাতেই হবে। তাই অন্য এক রোগীকে নিজের কিডনি দান করেন তিনি। বিনিময়ে ওই রোগীর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া কিডনি নিজের স্ত্রীর শরীরে প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করেন তিনি।
ব্যবসায়ী অরুণ বলেন, ‘তাঁর (‍পূজা) কষ্ট আমি আর দেখতে পারছিলাম না। একদিন চিকিৎসক আমায় বললেন, ২২ বছর বয়সী আরেক রোগী একই সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর বি-পজেটিভ রক্তের গ্রুপের কিডনি দরকার ছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম। বিনিময়ে ওই রোগীর মা তাঁর কিডনি আমার স্ত্রীকে দান করেছেন।’
ওই রোগীর সঙ্গে অরুণের এবং পূজার সঙ্গে ওই রোগীর মায়ের রক্তের মিল থাকায় কিডনি অদলবদলের কাজটি সফলভাবে করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পর্যায়ে উভয়ই ভালো আছেন।

অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক দুশান্ত নাদার বলেন, ‘স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে স্বামীর কিডনি দানের ঘটনা বিরল। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরাই তাঁদের অঙ্গ দান করেন।’

ভারতে অঙ্গদানের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্ত্রী বা মায়েরা তাঁদের অঙ্গ দান করেন। পূজার স্বামী অরুণ বলেন, ‘তাঁর (স্ত্রী) জন্য আমি যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত ছিলাম।’

অদলবদলের মাধ্যমে কিডনি দান করে জীবন বাঁচানোয় স্বামী অরুণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পূজা।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন