default-image

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বাম-কংগ্রেস জোটের। দোর্দণ্ড প্রতাপে ৩৪ বছর এ রাজ্য শাসন করা বামেরা এবার ভোটের মাঠে শূন্য হাতে ফিরেছে। তবে এ বিপর্যয়েও মানুষের কাছে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বাম দল সিপিএমের যুব ব্রিগেডের তৈরি ‘রেড ভলান্টিয়ার্স’। তারা বলেছে, বাম দল নির্বাচনে ভেন্টিলেশনে গেলেও এই ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য অক্সিজেন নিয়ে পাশে থাকবে।
ভারতের কংগ্রেস ও বাম দল দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেই ১৯৪৭ সাল থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ লালন করে রাজনীতি করে আসছে। অথচ এবারই প্রথম এ বাংলার মানুষ ছুড়ে দিয়েছে এই দুই ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে।

২০১৬ সালের সর্বশেষ বিধানসভার নির্বাচনে এ রাজ্যে কংগ্রেস জিতেছিল ৪৪টি আসনে আর বাম দল জিতে ছিল ৩২টি আসনে। এবার সেখানে শূন্য হয়ে গেছে। এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না এই দুই দল। তাদের প্রশ্ন, এ রাজ্য তো বরাবর গণতন্ত্রের, ধর্মনিরপেক্ষতার পূজারি। সেখানে কীভাবে এই রাজ্যের মানুষ একটি আসনেও জেতাল না ধর্মনিরপেক্ষ এ শক্তিকে? বিজেপি নিজেকে ইতিমধ্যে শক্তিশালী করে ফেলেছে। ২০১৬ সালে বিজেপি এই রাজ্যে ৩টি আসন পেয়েছিল। এবার সেখানে তারা তাদের আসনসংখ্যা ৩ থেকে ৭৭ করতে পেরেছে।

তবে এসব বিষাদের সংবাদেও হতাশ নন বাম দলের তরুণ ব্রিগেডের গড়া ‘রেড ভলান্টিয়ার্স’–এর সদস্যরা। তাঁরা বলেছেন, এই রাজ্যে ধর্মনিরপেক্ষতার সপক্ষে, সন্ত্রাস, লুটপাট আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জারি থাকবে।

বিজ্ঞাপন

এ বছর বাম দল সিপিএম বেশ কিছু আসনে প্রবীণ নেতাদের বাদ দিয়ে মনোনয়ন দিয়েছিলেন একঝাঁক তরুণকে। লক্ষ্য ছিল, এই তরুণ ব্রিগেডের সদস্যরাই পারবেন বিজেপি আর তৃণমূলকে জবাব দিতে। এই তরুণ ব্রিগেডে ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য, ঐশী ঘোষ, ইপ্সিতা ধর, সায়নদীপ মিত্র, প্রতীকুর রহমান, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, মধুজা সেন রায়, দেবজ্যোতি দাস, শতরূপ ঘোষ প্রমুখ তরুণ তুর্কি। তাঁরা চেষ্টা করেছেন, দাবি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন। কিন্তু লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি। তবে হাল না ছাড়ার প্রত্যয়ে বাম দলের তরুণেরা।

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নির্বাচন চলাকালেই তীব্র রূপ নিতে শুরু করে। আট দফার নির্বাচনের মধ্যে প্রথম বাম দলগুলোই ঘোষণা দেয়, তারা আর বড় আকারে নির্বাচনী সমাবেশ করবে না। তাদের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়। করোনা বাড়তে থাকলে বড় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। অন্য দলগুলোও তখন বাধ্য হয়ে তাদের সমাবেশ বন্ধ করে ভার্চ্যুয়াল সভা করে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এই নির্বাচনী ডামাডোলে রেড ভলান্টিয়ার্সের সদস্যরা গত মাসের শেষে ঘোষণা দেন, তাঁরা অসহায় মানুষের পাশে থাকার অবস্থান ধরে রাখবেন। গত বছর লকডাউনে বাম দল শ্রমজীবী ক্যানটিন করে সাড়া ফেলেছিল। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদান, করোনায় আক্রান্ত পরিবারকে বাজার করে দেওয়ার মতো মানবিক কাজে নামেন বাম ব্রিগেডের সদস্যরা। এবার অক্সিজেন নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন তরুণেরা।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গকে প্রথম শাসন করে কংগ্রেস। এরপর বাম দল। আর সর্বশেষ এখন শাসন করছে তৃণমূল।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেই ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট এই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন কংগ্রেসের প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ১৯৪৮ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ২৩ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী হন প্রখ্যাত চিকিৎসক বিধানচন্দ্র রায়।

তিনি ১৯৬২ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ মৃত্যুর দিন পর্যন্ত এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর অবশ্য এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন যথাক্রমে প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ, প্রফুল্ল চন্দ্র সেন, অজয় কুমার মুখার্জি, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় প্রমুখরা। তাঁরা সবাই ছিলেন কংগ্রেসের। এরপর ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসকে সরিয়ে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন বামফ্রন্টের শরিক সিপিএমের নেতা জ্যোতি বসু। তারপর হন সিপিএমেরই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ২০১১ সালে এই বামফ্রন্ট সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই থেকে এখনো ওই পদে আছেন মমতা। আর এবার এই একুশের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন