বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এবারের নির্বাচনে মমতা পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর কাছে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে পরাজিত হন মমতা। নন্দীগ্রামে মমতা হেরে গেলেও সংবিধান মেনে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করে। সাংবিধানিক বিধি হলো, ছয় মাসের মধ্যে মমতাকে রাজ্যের যেকোনো একটি বিধানসভা আসন থেকে জিতে আসতে হবে। সে অনুযায়ী, ভবানীপুর আসনে উপনির্বাচনে জিতে মমতা তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর পদ টিকিয়ে রাখলেন।

গত এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে ভবানীপুর আসনে লড়েন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ২৮ হাজার ৭১৯ ভোটের ব্যবধানে হারেন। মমতাকে ভবানীপুর আসন থেকে জেতানোর লক্ষ্যে সেখানকার নির্বাচিত তৃণমূল নেতা শোভনদেব পদত্যাগ করেন। এতে ভবানীপুর আসনটি শূন্য হয়। সেই আসনের উপনির্বাচনে লড়েন মমতা। এই আসনে এবার জিতে ‘হ্যাটট্রিক’ জয়ের রেকর্ড গড়লেন মমতা।

ভবানীপুর ছাড়াও গতকাল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ও শামসেরগঞ্জ আসনের উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। উভয় আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জিতেছেন।

ভবানীপুরে বড় ব্যবধানে জয়ের পর গতকাল বিকেলে মমতা বলেন, নন্দীগ্রামে চক্রান্তের জবাব দিল ভবানীপুর। ভবানীপুর এবার দিল্লি যাওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে।
মমতা বলেন, ‘আমাকে ভবানীপুরের সবাই ভোট দিয়েছেন। সবার ভোটেই আমি জিতেছি। এবার আমাদের লক্ষ্য হবে—এক অসাম্প্রদায়িক ভারত গড়া। সেই আন্দোলনে সবাইকে শরিক হতে হবে। এবার উৎসব নয়, আমাদের দাঁড়াতে হবে বন্যার্তদের পাশে। করোনা প্রতিরোধে লড়াই করতে হবে।’

গতকাল উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভবানীপুরসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিজয় উৎসব শুরু হয়। করোনার কারণে বিজয় উৎসবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে, গায়ে-মুখে সবুজ আবির মেখে, ঢাকঢোল পিটিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন।

ফল ঘোষণার পর কলকাতা পৌর করপোরেশনের প্রশাসক ও রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ভবানীপুরের বিজয় মুখ্যমন্ত্রী মমতার দিল্লি যাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। একই সঙ্গে মোদিকে হটানো, তথা মোদিমুক্ত ভারত ও ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ একটি সরকার গঠনের জন্য মমতাকে শক্তি জোগাবে।

ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘এবার আমাদের লক্ষ্য হবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে মোদিকে হটিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠনের আন্দোলন জোরদার করা। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ এবার মোদিমুক্ত দেশ গড়ার জন্য মমতার আন্দোলনে শামিল হবেন।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন